Home / নারী ও শিশু / দুই সুপারি চোর গলা কেটে হত্যা করে হাসিবকে

দুই সুপারি চোর গলা কেটে হত্যা করে হাসিবকে

যমুনা নিউজ বিডি: যশোরের অভয়নগরে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্র হাসিবুর রহমান হাসিব (৯) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ। সুপারি চুরি করা দেখে ফেলায় হাসিবকে গলা কেটে করে হত্যা করে দুই চোর। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকারী দুই সুপারি চোরকে যশোর আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

অভয়নগর থানার নবাগত অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) রকিবুজ্জামান জানান, গত রবিবার শিশু শিক্ষার্থী হাসিবের লাশ উদ্ধারের পর থেকে তার নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী এসআই আজাদ, পিএসআই সাইফুল ও এএসআই আফজাল হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে অভিযান শুরু করেন। তদন্তের জন্য ওইদিন চারজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরদিন সোমবার রাতে নিহত হাসিবের প্রতিবেশী উপজেলার একতাপুর গ্রামের মৃত খোকন মোড়লের ছেলে আবুল কাশেম (১৯) ও তার বন্ধু সামছুর সরদারের ছেলে মোস্তাকিন সরদারকে (১৮) আটক করা হয়।

আটককৃত দুই বন্ধু নওয়াপাড়ার আকিজ জুট মিলের শ্রমিক। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক গতকাল মঙ্গলবার সকালে একতারপুর ফারাজী বাড়ির পুরাতন পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করার পর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে আসে।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় হত্যাকারী কাশেম ও মোস্তাকিনকে ছুরি উদ্ধারের পর থানায় আনলে হাসিব হত্যার বর্ণনায় মোস্তাকিন জানায়, ঘটনার দিন রবিবার সন্ধ্যায় তারা গোলাম ফারাজীর সুপারি বাগানে সুপারি চুরি করে গাছ থেকে নামছিল। এ সময় শিশু হাসিব তাদের চুরি দেখে ফেলে এবং তাদের দুইজনকে বলে আমি দেখে ফেলেছি গোলাম নানাকে সব বলে দেব।

বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাবে এই ভয়ে কাশেম হাসিবের মুখ চেপে ধরে পাশেই মোস্তাকিনের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং রান্না ঘরে মুখ বেঁধে আটকে রাখে। সন্ধ্যার পর থেকে এশার নামাজ অবধি খোঁজাখুঁজি শেষ হলে তারা হাসিবকে হত্যার সিদ্ধন্ত নেই। রাত আনুমানিক ১০টার সময় হাসিবের মুখ বেঁধে আকরাম ফারাজীর মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে মোস্তাকিন তার হাত ও পা চেপে ধরে এবং কাশেম সুপারি চুরির কাজে ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে হাসিবকে গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী এসআই আজাদ বলেন, কাশেম ও মোস্তাকিন ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যায়। তারা স্বপরিবারের এলাকা থেকে অন্যত্র পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তাদের দুইজনকে আটকের জন্য দিনরাত অভিযান করা হয়েছে। সোমবার রাতে খুলনার ফলতলা উপজেলার একটি জুট মিল গেট থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। রাতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হাসিবকে জবাই করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে এবং ছুরিটি কোন পুকুরে ফেলেছিল তাও অকপটে স্বীকার করে। তিনি আরো জানান, হত্যাকারী এই চোর চক্রের একটি বাহিনী রয়েছে। যাদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু তিনি জানাতে চাননি।

অভয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, হত্যাকারী দুইজন পুলিশের সামনে জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আসামিদেরকে যশোর আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকাল ৪টায় হাসিবুর রহমান হাসিব বাড়ির পার্শ্বে ছিপ নিয়ে মাছ ধরতে বের হয়। পরদিন রবিবার সকালে স্থানীয় আকরাম ফারাজীর মেহগনি বাগানে হাসিবের গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়। যে ঘটনায় ওইদিন দুপুরে তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা স্কুল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে। দুপুরে নিহত হাসিবের চাচা সোহাগ হোসেন বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত হাসিব একতারপুর গ্রামের দিনমজুর মফিজুর মল্লিক ও সাবিনা খাতুনের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে। সে উপজেলার একতারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

Check Also

সাতক্ষীরার চারটি আসনে ৭৪ জন প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৭৪ …

Powered by themekiller.com