Home / আন্তর্জাতিক / দীর্ঘ এক দশক পর লেবাননে পার্লামেন্ট নির্বাচন

দীর্ঘ এক দশক পর লেবাননে পার্লামেন্ট নির্বাচন

যমুনা নিউজ বিডি ঃ দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর লেবাননে পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে আগামীকাল। ১২৮ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৯৭৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৮৬ জন। তবে পুরুষের তুলনায় দেশটিতে নারীরা এখনো পিছিয়ে বলে মনে করছেন অনেক নারী প্রার্থী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে বর্তমান সুন্নি প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তরুণ ভোটাররাই প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে বলে মত তাদের।

প্রায় এক দশক পর লেবাননে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তরুণ ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও বলছেন, তরুণ ভোটাররা যে দল বেছে নেবে, সে দলই ক্ষমতায় বসবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে।

খ্রিস্টান ধর্মভিত্তিক দল লেবানিজ ফোর্সের সমর্থক আমি। উদারপন্থী এই দল তরুণদের চাওয়া-পাওয়াকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সেজন্যেই এই দলকে আমার ভালো লাগে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি। সুন্নি নেতা হিসেবে তিনিই ফের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আশা করছি।

সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টের অর্ধেক আসন মুসলিম ও অর্ধেক খ্রিস্টান আইন-প্রণেতাদের জন্য নির্ধারিত। এছাড়া প্রেসিডেন্টের পদ খ্রিস্টান, প্রধানমন্ত্রীর পদ সুন্নি মুসলিম এবং স্পিকারের পদ শিয়া মুসলিমের জন্য সংরক্ষিত।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩৭ লাখ। এর মধ্যে ৮৩ হাজার প্রবাসী ভোটার। ১৯৪৩ সালে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম বিদেশে থাকা লেবানিজরাও ভোটাধিকারের সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সুন্নি মুসলমানদের দল ফিউচার মুভমেন্ট পার্টি, খ্রিস্টান ধর্মভিত্তিক দল ফ্রি প্যাটরিওটিক মুভমেন্ট পার্টি, দ্য লেবানিস ফোর্স, হাসান নাসরাল্লার হিজবুল্লাহ, শিয়া নেতা নাবিহ বেরিহ’র দল আমাল মুভমেন্ট পার্টিসহ ছোট-বড় আরও বেশ কয়েকটি দল।

এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আরও কয়েকজন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সাদ আল হারিরির ফিউচার মুভমেন্ট পার্টির জনপ্রিয়তা তুলনামূলক বেশি। তবে ইরান সমর্থিত হাসান নাসরাল্লার শিয়া দলও ভালো করতে পারে বলে মত তাদের।

লেবাননের কলামিস্ট নাবিল বৌমনসিফ বলেন, সুন্নি দলগুলোর মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হারিরির দল ভালো অবস্থানে থাকলেও পার্লামেন্টে তারা ১০টির মতো আসন হারাতে পারে। যার কারণ আঞ্চলিক রাজনীতি। শিয়া দলগুলোর মধ্যে আমাল জোটকে নিয়ে হিজবুল্লাহ তুলনামূলক ভালো ফল করবে বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে, পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বলছে, ১২৮ আসনে ৮৬ জন নারীর অংশগ্রহণ লেবাননের রাজনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য ”অগ্রগতি”। কারণ দেশটির বর্তমান পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধিত্বের হার মাত্র ৩ শতাংশ।

এই নির্বাচন নারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ ভোটাররা তাদের প্রতি সমর্থন দেবেন কি-না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। আমরা আমাদের মতো কাজ করে যাচ্ছি বাকি দায়িত্ব এখন ভোটারদের।

এদিকে, রবিবারের নির্বাচনের আগে এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল লেবাননে পৌঁছে পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করেছে।

Check Also

আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়

যমুনা নিউজ বিডি ঃ  এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর …

Powered by themekiller.com