Home / জাতীয় / তুরাগে উচ্ছেদ অভিযান ঢাল হিসেবে লাগানো গাছসহ রাস্তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো

তুরাগে উচ্ছেদ অভিযান ঢাল হিসেবে লাগানো গাছসহ রাস্তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো

যমুনা নিউজ বিডি :  মিরপুর বেড়িবাঁধের বিরুলিয়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে শুরু হয় গতকালের উচ্ছেদ অভিযান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) বুলডোজার, ক্রেন নিয়ে পরিষ্কার করতে থাকে নদী তীর। আগে দখলি জমিতে আবাসিক ভবন পড়লেও এখন সামনে পড়েছে বালুমহাল, গাছপালা, রাস্তা, অস্থায়ী ব্যবসাকেন্দ্র। সব কিছু গুঁড়িয়ে দিনভর প্রচেষ্টায় তিন একর জায়গা অবমুক্ত করা হয়েছে। উচ্ছেদ করা হয়েছে ১৭টি স্থাপনা। নদী তীর দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযানের ছাব্বিশতম দিবস ছিল গতকাল বুধবার। তুরাগের দুই তীর দখলের কালো থাবা অনেকটাই নিশ্চিহ্ন এ উচ্ছেদ অভিযানে।

তুরাগ নদের রূপনগর ও সাভার থানার দেউল মৌজার অংশে চলেছে গতকালের উচ্ছেদ অভিযান। নৌযান নিয়ে উচ্ছেদকারী দল যতই সামনে এগোতে থাকে সেখানেই দেখা যায় নানা রকম স্থাপনা। দখলে সংকুচিত হয়ে পড়া তুরাগের দূষিত পানিপ্রবাহের মাঝে বিশেষ কৌশলে এগিয়ে চলে বিআইডাব্লিউটিএর জলযানসহ টিম। আধা ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল পর্যন্ত টানা চলে উচ্ছেদকর্ম। অন্যদিনের তুলনায় গতকালের অভিযান ভিন্নমাত্রা পায় কথিত রাস্তা ভেঙে ও গাছপালা নির্মূলে। দুটি প্রতিষ্ঠান আবাসিক প্লট বিক্রির স্বার্থে নদী ভরাট করে বিশেষ কায়দায় তৈরি করেছে রাস্তা। দখলি অংশে গাছ লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে বনভূমি। উচ্ছেদ অভিযানে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত নদীর দখলি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। সেক্ষেত্রে দখলি জমিতে কী আছে সেটা এখন আর বিবেচ্য নয়। গাছপালা লাগানো হয়েছে ‘ঢাল’ হিসেবে। মানুষকে ভুল বোঝাতে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বিষয় আমলে নিলে অভিযান বিঘ্নিত হবে।

রাজউকের উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের কাছাকাছি স্থানটিতে দেখা যায় নদী তীর দখলের বিশেষ কৌশল। বছরের পর বছর জায়গা দখল করে সেখানে লাগানো হয়েছে গাছ। অনেকটা বনভূমির মতো দেখতে স্থানটি দখলি অংশ বলে শনাক্ত করা কঠিন। আশপাশে বালু ভরাট করে চলছে আবাসিক প্রকল্পের কাজ। সেখানে তুরাগের ওপর সেতু নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে একটি আবাসন কম্পানি। বেশির ভাগ তীরভূমে দেখা গেছে পাথর ও বালির স্তূপ। ব্যবসায়ীরা সেখানে কোটি কোটি টাকার মালামাল কেনাবেচা করছে অবৈধভাবে। স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে না নেওয়ায় গতকালের অভিযানে মালামাল জব্দের পর তা নিলামে তোলা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল ভাঙা হয়েছে ১৭টি স্থাপনা। যার মধ্যে রয়েছে দুটি এক তলা ভবন, ৯টি আধাপাকা ঘর ও ছয়টি টিনের ঘর। বুলডোজার দিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দিনভর অভিযানে নদীতীরের তিন একর জায়গা অবমুক্ত হয়েছে। সাতটি বালুর গদি উচ্ছেদের পাশাপাশি মালামাল ২০ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় নিলাম করা হয়েছে। বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘সামনে বেশ কিছু কারখানা রয়েছে, যা নদীর জমিতে পড়েছে। নোটিশ করা হয়েছে, রেড মার্ক করা আছে। কোনো তদবির, বাধা আমলে আনা হবে না। দখলি অংশ ভেঙে অভিযান চলবে।’

Check Also

পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ এখনও টেকসই নয়

যমুনা নিউজ বিডি :  কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা এখনও টেকসই নয় বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ …

Powered by themekiller.com