Home / খেলাধুলা / টাইব্রেকার ভাগ্য কার?

টাইব্রেকার ভাগ্য কার?

যমুনা নিউজ বিডি ঃ ৯০ মিনিট ধরে ১১ দুগুণে ২২ জন ফুটবলার মিলে ছোটাছুটি করেও যদি একদল অন্য দলের চেয়ে বেশি গোল করতে না পারে, তখন রেফারি সংকেত দেন অতিরিক্ত সময়ের। ১৫ মিনিট করে দুই অর্ধে ৩০ মিনিটের এ অতিরিক্ত সংযোজনেই খেলার ফল নিষ্পত্তির অনেক চেষ্টা করেছে ফিফা। চালু করা হয়েছিল গোল্ডেন গোল, সিলভার গোলের মতো নানা পদ্ধতি। কিন্তু ক্ষণস্থায়ী সেসব টোটকা ফের তুলে নিয়ে পেনাল্টি শ্যুট আউটের চেনা পদ্ধতিতেই ফিরে গেছেন ফুটবলের নীতিনির্ধারকরা। একদম ওয়েস্টার্ন ছবির ডুয়েল, শুধু তফাত বলতে পিস্তলের বদলে বল! একজনের বিপক্ষে একজন, গোল অথবা ‘নো গোল’। আজ রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়া দুই দল—ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া শেষ চারে এসেছে সেই টাইব্রেকার ভাগ্যেই। আজও কি টাইব্রেকারই ঠিক করে দেবে কে যাবে মস্কো আর কে থেকে যাবে সেন্ট পিটার্সবার্গেই?

১৯৭৮ বিশ্বকাপ থেকে টাইব্রেকার হিসেবে পেনাল্টি শ্যুট আউটের প্রবর্তন হলেও সেবার প্রয়োজন পড়েনি। পরের আসরে, অর্থাৎ ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানি বনাম ফ্রান্সের ম্যাচটি যখন নির্ধারিত সময়ে ২-২ ও অতিরিক্ত সময়ে ৩-৩ সমতায় শেষ হয়, তখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে দেখা গেল পেনাল্টি শ্যুট আউট। ৫-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে পশ্চিম জার্মানি। পরের টাইব্রেকারেও জড়িয়ে আছে ফ্রান্সের নাম। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, এবার অবশ্য ফরাসিরা জয়ী, টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া দলটার নাম ব্রাজিল।

এক আসরে সবচেয়ে বেশি, ৪টি করে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়েছে টাইব্রেকারে। ১৯৯০, ২০০৬ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ৪টি করে ম্যাচের ফল নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। দুইবার শিরোপা নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে, ১৯৯৪ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে। দুইবারই মাঠে ছিল ইতালি, প্রথমবার তারা হেরে যায় ব্রাজিলের কাছে আর পরের বার ‘আজ্জুরি’রা হারায় ফরাসিদের। প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে পর পর দুটো ম্যাচে টাইব্রেকারে দলকে জেতানো গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার সের্হিয়ো গয়কোচিয়া, ১৯৯০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সাবেক যুগোস্লাভিয়া ও ইতালির বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুট আউটে দলকে জিতিয়ে রীতিমতো তারকা বনে গিয়েছিলেন এই গোলরক্ষক। ২৮ বছর পর ক্রোয়েশিয়ার ড্যানিয়েল সুবাসিচ পর পর দুটো টাইব্রেকারে দলকে জেতালেন। শেষ ষোলোয় ডেনমার্ক ও কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়া, দুটো ম্যাচেই ক্রোয়াটরা জিতেছে পেনাল্টি শ্যুট আউটে।

অন্যদিকে টাইব্রেকারে সবচেয়ে দুর্ভাগা দলের নাম ইংল্যান্ড। এই বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জেতাটাই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে জয়। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানি, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, ইউরোতেও তিনবার টাইব্রেকারে হেরেছে ইংল্যান্ড। ১৯৯৬ ইউরোতে তো সাডেন ডেথে ইংরেজদের বর্তমান কোচ গ্যারেথ সাউথগেট মিস করাতেই জিতে যায় জার্মানি! সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই বোধ হয় এবার শিষ্যদের ভালো করে অনুশীলন করিয়েছেন সাউথগেট। কে জানে, সাউথগেটের এ প্রস্তুতিই হয়তো ১৯৬৬-র পর ইংল্যান্ডকে পৌঁছে দিতে পারে ফাইনালে!

ক্রোয়েশিয়ার ভাগ্যটাও মন্দ নয়। ২০০৮ ইউরোতে তুরস্কের কাছে টাইব্রেকারে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ক্রোয়াটরা। দলের দুই তারকা লুকা মডরিচ ও ইভান রাকিটিচ, দুজনই মিস করেছিলেন স্পটকিক। সেই রাকিটিচকেই এবার বলা হচ্ছে ‘নার্ভ অব স্টিল’ বা ইস্পাতের স্নায়ু। দুটো টাইব্রেকারেই ১০ নম্বর স্পটকিকটা নিয়েছেন রাকিটিচ, দুটোই গেছে সঠিক নিশানায়। ডেনমার্কের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি মিস করলেও টাইব্রেকে ঠিকই বল জালে পাঠিয়েছেন মডরিচ, ভুল হয়নি রাশিয়ার বিপক্ষেও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বসে যাবে না তো তাদের রথের চাকা? নাকি দানে দানে হবে তিনবার! এএফপি

Check Also

মর্যাদার লড়াইয়ে কাল মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

যমুনা নিউজ বিডি ডেস্ক : বিশ্ব ক্রিকেটের চিরপ্রতিন্দ্বন্দি দুই দল ভারত ও পাকিস্তান। এই দু’দলের …

Powered by themekiller.com