Breaking News
Home / সারাদেশ / ঢাকা বিভাগ / জমে উঠেছে ‘স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ব‌্যবসা’

জমে উঠেছে ‘স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ব‌্যবসা’

যমুনা নিউজ বিডি ঃ দে‌শে ক‌রোনা সংক্রমণ দিন দিনই বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর সারিও। সেইসঙ্গে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা, ভীতিও তীব্র হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের তিন মাস পার হলেও এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান দীর্ঘ হচ্ছে। কবে নাগাদ এই করোনার হাত থেকে রেহাই মিলবে- সেই ভবিষ্যতও অজানা। এ অবস্থায় টানা লকডাউন আর বন্দিদশায় দি‌শেহারা হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে রাজধানীর ফুটপা‌তের দোকানিরা। পেটের দায়ে তারা এখন আগের পেশা পাল্টে বিকল্প পেশায় ঝুকছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রিতে ঝুকছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘু‌রে দেখা গে‌ছে, রাস্তায় সব জায়গায় এখন অস্থায়ী দোকান বসিয়ে, মাস্ক, গ্লাবস, সেনিটাইজার, সেভলন, ডেটল বিক্রি করছে এইসব দোকানিরা। অথচ তারাই দু-চার মাস আগে অন্য ব্যবসা করতো। কিন্তু এখন অন্যান্য দোকানপাট খোলা রাখায় বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা থাকায় তারা বিকল্প ব্যবসায় নেমেছে।

রাজধানীর ফুটপা‌তের দোকানিরা ব‌লেন, ‘আমরাও মানুষ আমা‌দেরও বাঁচার অধিকার আছে। ক‌রোনার কার‌ণে ফুটপা‌তে আগে যে ব‌্যবসা কর‌তাম সেটা এখন চ‌লে না। কিন্তু আমা‌দেরও তো বাঁচ‌তে হ‌বে। তাই বাধ‌্য হ‌য়ে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি শুরু ক‌রে‌ছি। এগু‌লো বি‌ক্রি ক‌রে কোনোরকম খে‌তে তো পার‌ছি!’

জাতীয় প্রেক্লা‌বের সাম‌নে বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই ঝাল মুড়ি বিক্রি কর‌তো হাবিব। এখন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি ক‌রেন।

তিনি বলেন, ‘এখন তো আগের ব্যবসা চলে না। করোনা ভাইরাস আসার পর ঝাল মুড়ি বিক্রি হয় না। অন্য কিছু তো করতে হবে, ঢাকা শহরে একটা পরিবার নিয়ে চলতে গেলে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় তা তো বুঝেনই মামা। তাই আগের ব্যবসা পরিবর্তন করে আপাতত স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করছি। আগের ব্যবসার তুলনায় এই ব্যবসায় কষ্ট একটু কম, লাভটাও একটু বেশি।’

তিনি আরও জানান, লডাউনের সময় বেচাবিক্রি কম ছিল। লকডাউন তুলে দেয়ায় এখন বেচাবিক্রি ভালোই। মোটকথা পরিবার নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে কোনরকম তার জীবন চলে যাচ্ছে।

পেশায় রোটারির কাজ করা মঞ্জু বলেন, ‘আগে রোটারি করতাম, দলিল লিখতাম। এখন তো সেই কাজ করার উপায় নেই। করোনা ভাইরাস জীবনের অনেক কিছুই পরিবর্তন করে দিয়েছে। জীবন চালাতে তাই বাধ্য হয়ে এখন এগুলো বিক্রি করছি। পেট তো বাঁচাতে হবে, পরিবারের মুখে তো খাদ্য তুলে দিতে হবে। তবে আগের পেশার তুলনায় বর্তমানে যেটা করছি সেটাও খারাপ না, একটু কষ্ট করলে লাভ ভালই পাওয়া যায়। যত বেশি বিক্রি ততবেশি লাভ। ভবিষ্যতে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে অবশ্যই আগের ব্যবসায় ফিরে যাবো।’

ফল বিক্রেতা মিন্টু বলেন, ‘আগে পেঁপে, আনারস, শসা কেটে বিক্রি করতাম। এখন সেই সুযোগ নাই। করোনা ভাইরাসের কারণে সেই ব্যবসা বন্ধ। লকডাউন দেয়ার পর গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু কতদিন এইভাবে থাকা যায় বলেন। ঢাকা আসার পরে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি শুরু করেছি, লাভ মোটামুটি খারাপ না। কষ্টটা একটু বেশি- এই আর কি। মার্কেট ঘুরে ঘুরে মাল সংগ্রহ করি, তারপর বিক্রি করি। বিক্রি ভালই হয়, কারণ করোনা ভাইরাসের কারণে এখন এই জিনিসগুলোর চাহিদা বেশি। আল্লাহর রহমতে এখন পরিবার নিয়ে খেয়েপড়ে মোটামুটি ভালই যাচ্ছে দিন।’

চা-সিগারেট বিক্রেতা সাইফুল বলেন, ‘লাভ ভাল হয়, এই ধারণা থেকে আগের ব্যবসা বন্ধ করে এখন এসব স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করছি। আগে সারাদিন চা-সিগারেট বিক্রি করে যে লাভ হতো এখন এই ব্যবসা করায় তার লাভ ডাবল হয়।’ দিনে কি রকম লাভ হয় জান‌তে চাই‌লে তিনি বলেন, ‘সারাদিনে ৪-৫ হাজার টাকার জিনিস বিক্রি হলে অর্ধেকেরও বেশি লাভ থাকে। কোনদিন ৫ হাজার কোনদিন ৭ হাজার টাকার জিনিস বিক্রি হয়। যেদিন বেশি বিক্রি হয় সেদিন ১০ হাজারও ছাড়িয়ে যায়।’

সাইফুল আরও বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে মানুষ কখনো কার্পণ্য করে না। তাই এই করোনা ভাইরাসের সময়ে মানুষ সুরক্ষিত থাকতে এসব পণ্য কিনে নিচ্ছে। এজন্য চাহিদাও এখন বাড়তি। কারণ বেঁচে থাকতে হলে মানুষকে এগুলো ব্যবহার করতেই হবে।’

Check Also

বগুড়া-১ আসনের নির্বাচন পিছানোর দাবী

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া-১(সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে উপ-নির্বচন এর ভোট গ্রহনের তারিখ পিছানোর দাবী জানিয়েছেন বিএনপি মনোনিত প্রার্থী …

%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com