Home / বিনোদন / জন্মদিনের আগে উত্তম কুমারের বাড়ি

জন্মদিনের আগে উত্তম কুমারের বাড়ি

যমুনা নিউজ বিডিঃ উত্তমকুমার, তাঁর কথা উঠলে ভবানীপুর, ময়রা স্ট্রিটই আলোচনায় আসে। আড়ালে থেকে যায় উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় তাঁর জন্মভিটে। ফিরে দেখা সেই আঁতুড়ঘর… উত্তমের জন্মদিনের আগের দিন সে বাড়িতে ঢুঁ মারলেন ইন্ডিয়া টাইমস-এর ভাস্বতী ঘোষ।

আহিরীটোলা স্ট্রিটের ৫১ নম্বর বাড়ি কোনটা? বুধবার দুপুরে পাড়ার মোড়ের মিষ্টির দোকানের বিক্রেতা হেসে বললেন, ‘আমার ৩০ বছরের পুরোনো মিষ্টি দোকান। এখনও প্রতি মাসে কেউ না কেউ এসে এই ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। কাল জন্মদিন তো?’ আহিরীটোলায় ঝাঁ চকচকে রেস্তোরাঁর তত বাড়বাড়ন্ত নেই। বরং পাড়ার ভাতের হোটেলে রমরমা করোনার আবহাওয়াতেও। সেখানে দু’ জন ভাত-মাছের ঝোল খেতে-খেতে আলোচনায় মগ্ন, এ বার মহানায়কের জন্মদিনে ধুমধামে কমতি হচ্ছে। ৫১ নম্বর বাড়িতে বেল বাজাতে দরজা খুললেন মহানায়কের সেজমামার স্ত্রী মুকুল মুখোপাধ্যায়। কিছুটা অশক্ত শরীর। মনের কথা মুখ ফুটে বলেই ফেললেন, ‘ভাবছিলাম, এ বার কি কেউ দরজায় কড়া নাড়বে না? প্রতি বছর এই সময় কেউ না কেউ ঠিক আসে!’

পুরোনো আমলের দোতলা বাড়ি। লাল রংয়ের ওপরে লেখা ৫১। সবুজ সদর দরজা পেরিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকলে দু’দিকে দুটো ঘর। দেওয়াল-মেঝে লাল। আর একটু এগোলে একটা দরজা। বাঁ হাতে সিঁড়ি। সিঁড়ি বেয়ে দোতলা গেলে, সেই ঘর। সেখানেও মেঝে লাল। ঘরটির সামনে দাঁড়ালে এক প্রকার শিহরণ হয়। এখানেই ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন বাংলার সর্বকালের জনপ্রিয়তম নায়ক। যে নায়কের জনপ্রিয়তাকে ৫০ বছরেও হার মানাতে ব্যর্থ বাংলা ছবির আর কোনও তারকা। উত্তম কুমারের আঁতুড়ঘর যেমনটা ছিল, ঠিক তেমন আছে। কোনও কিছু ভেঙে নতুন করে গড়া হয়নি। লাল মেঝে। কড়িকাঠের ছাদ। দেওয়ালের রং ওঠা। পুরোনো আমলের খাট, আসবাব সেখানে। পাড়ার মোড়ে উত্তমের নামে পার্ক হয়েছে। কিন্তু উত্তম কুমারের কোনও ছবি আলাদা করে দেওয়ালে রাখা হয়নি এই ঘরে। কারণ হিসেবে সেজমামিমা স্পষ্ট করলেন, ‘উত্তম খুব মাটির মানুষ ছিল। একদম বিলাসিতা পছন্দ করত না বাড়ির ব্যাপারে। বাড়ির নীচ থেকে আলো নেভাতে-নেভাতে ওপরে উঠত। বলত, এত বিলাসিতার কোনও দরকার নেই। পুজোর সময় একদম সাধারণ অন্নভোগ যা হতো, ও সেটাই খেত’। মামা-মামিমাদের মধ্যে ইনিই আপাতত বেঁচে। খুবই আন্তরিক। বাড়িটা দেখলে টের পাওয়া যায়, উত্তম শুধু দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বা মধ্য কলকাতার ময়রা স্ট্রিটের নন। তিনি উত্তর কলকাতারও প্রতিনিধি।

আসলে ঘরোয়া উত্তম যে টলিউডের উত্তমের চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিলেন, সেটা এ বাড়ির হাওয়ায় ভাসা গল্পে কান পাতলে বোঝা যায়। কারণ উত্তম কুমারের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে বরাবর এলাহি পার্টি হতো। সেখানে উত্তম দু’হাতে খরচ করতে ভালোবাসতেন। আবার সেই মানুষটাই বাড়িতে বেশি আলো জ্বললে বলতেন, অকারণে খরচের দরকার নেই। বাড়িতে দেখা হল চার জনের সঙ্গে। সবাই খুব আবেগপ্রবণ। এই ঐতিহাসিক বাড়ি খুলে অতিথিদের দেখানোটা কর্তব্যই মনে করেন। খুব ঘরোয়া। উত্তমের মামাতো ভাইয়ের বউ সুবর্ণা মুখোপাধ্যায় যোগ করলেন, ‘আমি কিন্তু বিয়ের আগে থেকেই ফ্যান। উত্তম কুমার আমার ভাসুর হবেন শুনে চমকে উঠেছিলাম। এ বাড়িতে এসে জেনেছি, মামাবাড়িতে এলে উত্তম কুমার কুমোরটুলি চলে যেতেন। সুন্দর ঠাকুর গড়তেন নিজে হাতে’। পুজোর কথা উঠতে সেজমামিমা গল্প জুড়ে দেন, ‘এ বাড়িতে বরাবর দুর্গাপুজো হয়। এ বছর হবে কি না এখনও ঠিক নেই। তবে নায়ক হওয়ার পরও উত্তম এখানে অঞ্জলি দিত। গৌরীকে সঙ্গে নিয়ে। প্রতি বছর। আর বাইরে বিরাট ভিড়। সকলে চিৎকার করছে তখন, ‘সুচিত্রা সেন নেই কেন? কেন উত্তমের সঙ্গে গৌরী?’ এমন হওয়ায় মামারা রেগে গিয়েছিল। তারপর বলল, ‘তুই আর আসিস না। এমন ভিড় সামলাতে পারছি না। উত্তম তাতে মন খারাপ করেছিল’। আজ শহরজোড়া মন খারাপ করোনা বন্দিত্ব না ঘোচায়। তা-ও মহানায়কের জন্মদিন যদি এক টুকরো ভালো লাগা এনে দেয় সিনেমাপ্রেমীদের মনে।

Check Also

বিগ বসের প্রত্যেক কর্মী বেতন পাচ্ছেন তো? সালমান যা করলেন

যমুনা নিউজ বিডিঃ  আগামী ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে বিগ বস ১৪। টেলিভিশনের গ্র্যান্ড রিয়্যালিটি …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com