Home / সারাদেশ / গফরগাঁওয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্যের সনদপত্রে চাকরির অভিযোগ

গফরগাঁওয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্যের সনদপত্রে চাকরির অভিযোগ

যমুনা নিউজ বিডি :  ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তথ্য গোপন করে অন্যের সনদপত্র ও নিবন্ধন সনদ দাখিল করে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার টাঙ্গাব ফাজিল মাদ্রাসায়। এ ঘটনায় দাখিল করা সনদের প্রকৃত দাবিদার গয়েশপুর দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার আরবী বিষয়ের প্রভাষক মাহমুদুল হাসান টাঙ্গাব ফাজিল মাদ্রাসার আরবী বিষয়ের অভিযুক্ত প্রভাষক মাহমুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্প্রতি (গত রবিবার) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর পূর্বে একই অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও অভিযোগকারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার টাঙ্গাব ফাজিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এটি এম নজরুল ইসলাম গত ২০১৮ সালে অবসরের পূর্বে তার ছেলে মাহমুদুল ইসলামকে আরবী বিষয়ের প্রভাষক পদে চাকরি দেন। পরে একই বছরের জুলাই মাসে চাকরিটি এমপিওভুক্ত হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে মাহমুদুল ইসলাম চাকরির জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের যেসব সনদপত্রের ফটোকপি ও নিবন্ধন সনদ দাখিল করেছেন সেগুলো গয়েশপুর দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার আরবী বিষয়ের প্রভাষক ‘মাহমুদুল হাসানের’। অভিযুক্ত প্রভাষক মাহমুদুল ইসলাম ‘ইসলামের ইতিহাস’ বিষয়ে মাস্টার্স পাশ হলেও তথ্য গোপন করে অন্যের সনদপত্র ও নিবন্ধন সনদ দাখিল করে ‘আরবী বিষয়ে’ চাকরি নিয়েছেন। পরে এ বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর সনদের প্রকৃত দাবিদার মাহমুদুল হাসান অভিযুক্ত প্রভাষক মাহমুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। গত রবিবার আবারো তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাব ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ দাখিল করে থাকলে তো আমার কাছে চিঠিই আসবে।

সনদের প্রকৃত দাবিদার মাহমুদুল হাসান শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাহমুদুল ইসলাম নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য গোপন করে আমার সকল সনদপত্র ও নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে চাকরি করছেন। আমি এর বিচার চাই।

‘ওনি আপনার সনদপত্র পেলেন কোথায়? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছি। হয়তো সেখান থেকে তিনি আমার কাগজপত্র যোগার করেছেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একই বিষয়ে পূর্বে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশনা আমি পাইনি। আমার কাছে দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এমপিও বাতিল, চাকরিচ্যূত, জরিমানা, সনদ বাতিলসহ অনেক কিছুই হতে পারে।

Check Also

শৈলকুপায় ভাইস চেয়ারম্যানের প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা, আহত ৭

যমুনা নিউজ বিডিঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা …

Powered by themekiller.com