Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / কেমন আছেন গাজার বাসিন্দারা?

কেমন আছেন গাজার বাসিন্দারা?

যমুনা নিউজ বিডি ঃ ইসরায়েলের অবরোধ করে রাখা ৪১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ কিলোমিটার প্রস্থের গাজা উপত্যাকায় প্রায় ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি দিনাতিপাত করে। তার এক পাশে ইসরায়েল এবং অন্যপাশে মিসর; বাকিটা ভূমধ্যসাগর পরিবেষ্টিত।

১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের সময় ভূখন্ডটির দখল নিয়ে ফেলে ইসরায়েল। পরে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও সাত হাজারের বেশি বসতি স্থাপনকারী রয়ে গেছেন গাজায়।

গাজা এখন শাসন করছে হামাস। হামাস গাজা দখলে নেওয়ার পর, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ ও সেখানকার বাসিন্দাদের চলাচল বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। মিসরও আটকে দেয় সীমান্ত।

সে কারণে আক্ষরিক অর্থে অবরুদ্ধ গাজার অর্থনীতিতে ১৯৯০ সালের পর থেকে কেবল ধসই নেমেছে। বিশ্ব ব্যাংকের দেওয়া হিসাব মতে, ২০১৭ সালে গাজার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। এখানকার ৪৪ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার। আর দারিদ্র সীমার নীচে আছে ৩৯ শতাংশ।

গাজার শিক্ষা ব্যবস্থারও ভঙ্গুর দশা। এক সময় গাজায় প্রায় হাজারখানেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখন সে সংখ্যা আড়াই শো’তে ঠেকেছে। ২০১৪ সালের ইসরায়েলের সাথে হামাসের সংঘর্ষের ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে পাঁচশ ৪৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

যথাযথ শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গাজায় আরো নয়শ স্কুল ও ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক দরকার।

 

এদিকে বিশ্বের জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে গাজা অন্যতম। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে এখানে বাস করে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। ২০২০ সালে যা ছয় হাজার ছাড়াবে। আর ২০৩০ সালে জনসংখ্যা হবে ৩১ লাখ।

বর্তমান জনসংখ্যার জন্য আরো দরকার এক লাখ বিশ হাজারের মতো ঘর। এখন নিজ ভূমেই উদ্বাস্তু জীবন কাটাচ্ছে গাজার ২৯ হাজারের বেশি মানুষ।

দশকের পর দশক ধরে চলা অবরোধের ফলে, গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থার অবস্থাও নাজুক। চিকিৎসার জন্য গাজাবাসীকে নির্ভর করতে হয় প্রতিবেশী দেশ মিসরের ওপর। কিন্তু বর্তমানে মিসরেও যাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া হিসাব মতে, ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত মিসরে প্রতি মাসে গড়ে চিকিৎসার জন্য যেতেন চার হাজার গাজাবাসী।

এখন তাদের জাতিসংঘের দেওয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুতের অভাবে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি চিকিৎসা কেন্দ্র।

অবরোধের ফলে বিপর্যস্ত গাজার কৃষি ব্যবস্থাও। ইসরাইলি বাধার মুখে জমি চাষাবাদ করতে পারছে না ফিলিস্তিনিরা। মাছ ধরাও পড়েছে চ্যালেঞ্জের ‍মুখে। দিনে দিনে আরো সঙ্কুচিত হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দ জলসীমা। এখন জাতিসংঘের দেওয়া ত্রাণ সহায়তা শেষ ভরসা অনেক ফিলিস্তিনির।

বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া, গাজার নিত্যদিনের ঘটনা। প্রত্যেক দিন তিন থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান গাজার বাসিন্দারা। এর অধিকাংশ বিদ্যুৎ আসে ইসরায়েল থেকে, আর কিছুটা দেয় মিসর। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, প্রযোজনীয় বিদ্যুতের এক তৃতীয়াংশও পায় না গাজাবাসী।

পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যাও প্রকট এখানে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপরই নির্ভর করতে হয় গাজাবাসীর। আর গৃহস্থলি কাজের জন্য নির্ভর করতে হয় স্থানীয় পাইপ লাইনের ওপর।

Check Also

লেবাননের নতুন পার্লামেন্টেও থাকছেন হিজবুল্লাহ সমর্থক স্পিকার

যমুনা নিউজ বিডি ঃ লেবাননের পার্লামেন্টের সদস্যরা আবারো স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করেছেন হিজবুল্লাহর বন্ধু নাবীহ …

Powered by themekiller.com