Home / সারাদেশ / ঢাকা বিভাগ / কালকিনিতে চলছে প্রভাবশালী মহলের রমরমা সুদের ব্যবসা’ নিঃস্ব হচ্ছে দরিদ্র মানুষ

কালকিনিতে চলছে প্রভাবশালী মহলের রমরমা সুদের ব্যবসা’ নিঃস্ব হচ্ছে দরিদ্র মানুষ

আরিফুর রহমান, মাদারীপুরঃ মাদারীপুরের কালকিনিতে গ্রাম পর্যায় চলছে একটি প্রভাবশালী মহলের রমরমা সুদের ব্যবসা। প্রতিমাসে হাজার-হাজার টাকা সুদ দিতে হয় অসহায় দরিদ্র মানুষের। এবং কি মাস শেষে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বৃদ্ধি পায়। পরে এ সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মাঠের জমি, গুরু-ছাগল ও বসতভিটা পর্যন্ত হারাতে হচ্ছে সুদি ব্যবসায়ীদের কাছে। অনেকে আবার সুদের টাকা দিতে না পেরে সুদের ব্যবসায়ীদের হুমকিতে পড়ে নিজের গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এদিকে সুদের টাকা দিতে না পেরে ঘরবাড়ি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে। আজ বুধবার সকালে সরেজমিন সুত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এলাকা ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার ডাসার ও নবগ্রাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা চলে আসেছে। নবগ্রামের শিক্ষক রনজিৎ মল্লিক ২০১৩ই সালে শহীদ স্মৃতি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য একই এলাকার সৈয়দ হারুন কেরানী, মোঃ ইমরান, বনানী মল্লিক, অনিল মল্লিক, মিলন অধিকারী, মন্টু জয়ধর, কিরন সাহা, রিপন ভক্ত খোকন ও প্রবিন বাড়ৈসহ ২৬ জনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ্য টাকা সুদের উপর আনেন। পরে রনজীৎ মল্লিক তাদেরকে প্রায় ১৬ লক্ষ্য টাকা ফেরত দিয়ে দেন। কিন্তু সুদ ব্যবসায়ীরা রনজীৎ মল্লিকের কাছে এখন আরো ৪০ লক্ষ্য টাকা দাবী করে আসছেন। সুদ ব্যবসায়ীদের এ দাবী কৃত টাকা পরিশোধ করার জন্য তাকে নিয়মিত হুমকী-ধামকী ও চাঁপ দিয়ে আসছে ওই সুদ ব্যবসায়ীরা। পরে সে নিরুপায় হয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী তাদের সন্তানদের নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। এদিকে শিক্ষক রনজীৎ বাড়িতে না থাকায় অনেক সুদেও ব্যবসায়ী তার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য হুমকী দিতেছেন বলে রনজীৎয়ের স্ত্রী অভিযোগে যানান।
প্রদীপ মল্লিক নামে এক ব্যক্তি জানান, সুদ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা জরুরী হয়ে পড়েছে। যদি কেউ বিপদে পড়ে ৫০ হাজার টাকা সুদে নেন, তাহলে পাঁচ মাস পর পাঁচ লাখ টাকা দিয়েও সুদ ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ হয় না। সুদ ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের জমি পর্যন্ত জোরপূর্বক লিখে নিচ্ছে। এবং কি এরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
রনজীৎ এর স্ত্রী সুমলা গুপ্ত কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী স্কুল করার জন্য প্রায় ২০ লক্ষ্য টাকা সুদে আনছেন। তাদের ১৬ লক্ষ্য টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু তারা এখন আরো ৪০ লক্ষ্য টাকা দাবী করছে। তাই তাদের টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় আমার স্বামী বাড়ি থেকে চলে গেছে। কিন্তু এখন অনেকে বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার সন্তানদের তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকী দিয়ে আসছে। এখন আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় নেই।
অভিযুক্ত সুদ ব্যবসায়ী খোকন বলেন, আমরাতো ছোট ব্যবসায়ী আপনারা বড়-বড় সুদ ব্যবসায়ীদের ধরেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার ডাসার থানার ওসি মুহাম্মদ আবদুল ওহাব বলেন, সুদ ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া এ কথাটি শুনেছি। এছাড়া সুদ ব্যবসার বা কোন টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে কারও জমি, কারও বাড়ি, এমনকি কাউকে মারধর করা হয়েছে বা কোন আইন শৃঙ্খলার পরিপন্থি কেউ কাজ করেছে এমন ঘটনায় কোন অভিযোগ পেলে সুদ ব্যবসায়ীসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

সোনালী অতীতের ফুটবল লড়াই : বগুড়ার কাছে হারলো ঢাকা

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা সাবেক ফুটবলাররা খেলতে আসছে। তারা বগুড়ার সাবেক ফুটলারদের …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com