Home / জাতীয় / কাউন্টার নম্বর ৩০৫

কাউন্টার নম্বর ৩০৫

যমুনা নিউজ বিডি: ‘এটা কোনো কথা হলো! আমরা তো এখনো ব্রেকফাস্টই করিনি আর উনি গেছেন লাঞ্চ করতে। এতগুলো মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে কাজ করছেন মাত্র একজন ভদ্রমহিলা। অনেকের মুখে শুনেছিলাম পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি নেই, এখন দেখছি দালালকে দু-চারশ টাকা দিলেই ভালো হতো। এই নাকি ডিজিটাল এর নমুনা!’

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদফতর এর দ্বিতীয় তলায় ৩০৫ নম্বর কাউন্টারের অদূরে দাঁড়িয়ে এক ভদ্রলোক এই খেদোক্তি করছিলেন।

তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনুমানিক ছয় সাত বছরের এক ছোট্ট শিশু বলছিল, ‘চলো বাবা, চলে যাই। আমার পাসপোর্ট লাগবে না।’

মেয়েটিকে কোলে তুলে নিয়ে তার বাবা বললেন, ‘দেখছো না মা, কাউন্টারে লোক নেই। একটা মাত্র আন্টি সব কাজ করছেন- তাই দেরি হচ্ছে মা। এইতো আর কিছুক্ষণ পরই তোমার আম্মুর সিরিয়াল চলে আসবে।’

সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, দোতলার এ কক্ষটিতে কয়েকশো নারী, পুরুষ ও শিশুর ভিড়। নিচতলার সিঁড়ি ঘর থেকে লম্বা লাইন। কেউ এসেছেন নতুন পাসপোর্ট এর কাগজপত্র জমা দিতে, কেউ এসেছেন পাসপোর্ট রিনিউ করাতে আবার কেউ এসেছেন পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে। অল্প জায়গার মধ্যে কয়েকশো মানুষের উপস্থিতিতে প্রচণ্ড গরমে কমবেশি সবাই ঘামছিল। দোতলার এই কক্ষটির পাশেই পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দু’টি বাথরুম। অসংখ্য মানুষের ঘন ঘন যাতায়াত এর ফলে বাথরুম থেকে কক্ষটিতে ছড়িয়ে পড়ছিল দুর্গন্ধ।

পাসপোর্ট ডেলিভারি নেয়ার কাউন্টারে একাধিক লোক থাকায় কষ্ট হলেও সিরিয়াল মেনে পাসপোর্ট ডেলিভারি প্রত্যাশীরা পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যায়। কিন্তু পাশের ৩০৫ নম্বর কাউন্টারটিতে তিনটি চেয়ার ও তিনটি কম্পিউটার দেখা গেলেও মাত্র একজন ভদ্রমহিলাকে পাসপোর্ট জমা নেয়ার কাজ করতে দেখা যায়। নারী পুরুষের উভয় লাইন থেকে তিনি দু’জন পুরুষের পর একজন মহিলার কাগজপত্র কম্পিউটারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিল মেরে দিচ্ছিলেন। দুপুর ১টার আগেই সহকর্মীদের একজন লাঞ্চ করতে চলে যাওয়ায় উপস্থিত অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশুকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘামে ভিজে কষ্ট করতে দেখা যায়।

দেরি দেখে অনেকেই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে পাশেই লিফটের গোড়ায় ৩০৭ নম্বর কাউন্টারের সামনে বসে থাকা এক সেনাসদস্য বারবার দৌড়ে আসছিলেন। তিনি নিজেও ভদ্রমহিলার কাছে জানতে চাইছিলেন তার সহকর্মীরা কোথায়। অসংখ্য মানুষের ভিড় থাকায় ভদ্রমহিলা এক শব্দে লাঞ্চে বলে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপস্থিত কয়েকজন জানান, ৩০৫ নম্বর কক্ষে বেশিরভাগ সময়ে মাত্র একজনকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

তারা বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাত সকালে কষ্ট করে পাসপোর্ট অফিসে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন দুপুর ১টা বাজার আগেই কাউন্টারের লোকজন লাঞ্চে চলে যায় তখন তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তারা আরও বলেন, পাসপোর্ট অফিসে আগতদের মধ্যে অনেকেই রোগী থাকেন। তাদেরকে এ কষ্ট দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। তারা কাউন্টারে জনবল বাড়ানোর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ছয়তলার এক পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেও তিনি মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, কাজের চাপ অনুসারে জনবল কম। সকাল থেকে পাসপোর্ট জমা ও ডেলিভারি দিতে গিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু কিছু সময়ের জন্য টয়লেটে গেলেও লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলো মেনে নিতে চায় না!

Check Also

পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ এখনও টেকসই নয়

যমুনা নিউজ বিডি :  কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা এখনও টেকসই নয় বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ …

Powered by themekiller.com