Home / রাজনীতি / এরশাদকে ‘ইমামতি’র দায়িত্ব দিলেন ইসলামি মহাজোটের চেয়ারম্যান

এরশাদকে ‘ইমামতি’র দায়িত্ব দিলেন ইসলামি মহাজোটের চেয়ারম্যান

যমুনা নিউজ বিডি ঃ আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ‘ইমামতির’ দায়িত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ ইসলামি মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক।

শনিবার রাজধানীতে ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সমঝোতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন ওয়াহেদ।

এরশাদের সঙ্গে আগেই জোটবদ্ধ নিবন্ধনহীন দলটির নেতা বলেন, ‘ইমামতির জন্য কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন, সেটা এরশাদের আছে। আমরা তাঁকে আমাদের নেতৃত্ব বা ইমামতির দায়িত্ব দিয়েছি। কারণ, কোনো মহিলাকে ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া যায় না।’

২০১৭ সালে ৩৪টি নামসর্বস্ব ইসলামি দল নিয়ে জোট গঠন করে এরশাদের সঙ্গে ইসলামী মহাজোট করেন ওয়াহেদ।

এরশাদের নেতৃত্বে বর্তমানে ৫৮ দলের সম্মিলিত জাতীয় জোট আছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্ত হওয়ায় দলের সংখ্যা হলো ৫৯।

ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলে এরশাদের জোট গঠন এই প্রথম নয়। ১৯৯৯ সালে বিএনপি, জাতীয় পার্টির, জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোট মিলে চারদলীয় জোট গঠনের সময়ও ইসলামি শাসনের কথা বলা হয়েছিল।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে এরশাদ জোট ভেঙে বের হয়ে জোটবদ্ধ হন চরমোনাই পীরের ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে। তবে নির্বাচনের পর এই জোট ভেঙে যায়।

আজকের অনুষ্ঠানে জোট নেতা ওয়াহেদ ফারুকের এই বক্তব্যের পর আপ্লুত এরশাদ বলেন, ‘ইসলামের চেয়ে বড় শক্তি আর নেই। কিন্তু অনৈক্যের কারণে ইসলাম আজ ধ্বংসের মুখে। ইসলামকে এ দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলামের আওয়াজকে বুলন্দ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ছয় দফা চুক্তির ভিত্তিতে নির্বাচনী সমঝোতা করেন এরশাদ। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই ছয় দফার ভিত্তিতে সমঝোতা করেছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গেও। তবে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচন ভেস্তে যাওয়ার পর এই সমঝোতা থেকে সরে আসে আওয়ামী লীগ।

খেলাফত মজলিস এক সময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে ছিল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক তখন কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ছিলেন।

তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পরপরই ইসলামী ঐক্যজোট ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ভাগ হয়ে যায়। শায়খুল হাদিসকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান হয়ে যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী। চারদলীয় জোটের শেষ দিকে এসে শায়খুল হাদিসের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসও ভেঙে যায়। ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের সময় শায়খুল হাদিসের নেতৃত্বের অংশের নাম হয় ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’। আর সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন অংশের নাম হয় শুধু ‘খেলাফত মজলিস।’ শায়খুল হাদিসের অংশটি বিএনপি থেকে বের হয়ে গেলেও বাকি অংশটি এখনও ২০ দলীয় জোটে রয়েছে।

এদিকে মুফতি আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট বছর দুয়েক আগে বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এই জোটটি এখন সরকারি দল আওয়ামী লীগের আনুকূল্য পাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ একটি সমঝোতা হবে বলে জানা গেছে।

এরশাদের সঙ্গে করা ছয় দফা চুক্তিতে আছে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করা; সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস কথাটি পুনঃস্থাপন; কওমি শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় সংসদে আইন পাস; ইসলাম, নবী, রাসূল ও সাহাবীদের নামে কটূক্তিকারীদের শাস্তির বিধান; হযরত মোহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এটা সংবিধানে যুক্ত করা এবং সব ধর্মের লোকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বর্তমান আমির সিলেটের কাজীরবাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান। তিনি ‘বুলবুলি হুজুর’ হিসেবে পরিচিত। তসলিমা নাসরিনকে নাস্তিক ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

হাবিবুর বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশে ইসলামি শাসন কায়েম করব। বিজয়ের নিশানা উড়িয়ে দেব।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য করায় ‘খুব খুশি’ হয়েছেন এরশাদ। বলেন, ‘এতে আমরা কত শক্তিশালী হয়েছি পরে বুঝবেন। আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। প্রমাণ করব, আমরা ক্ষমতায় আসতে পারি।’

এরশাদ দাবি করেন, ইসলামের জন্য তার চেয়ে বেশি কাজ আর কেউ করেননি।

‘ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছি। শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি করেছি। সব মসজিদের পানি ও বিদ্যুতের বিল মাফ করে দিয়েছি।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এরশাদকে ‘ইসলামি উম্মাহর অনন্য নেতা’বলে উল্লেখ করেন। বলেন, ‘এরশাদ ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন’।

Check Also

১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে সভা সমাবেশ

যমুনা নিউজ বিডি ঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান …

Powered by themekiller.com