Home / সম্পাদকীয় / এদের আইনের আওতায় আনুন

এদের আইনের আওতায় আনুন

স্কুল ও কলেজের শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেছে, কী ভয়ানক অসংগতির মধ্যে রয়েছে সড়কের অসহনীয় নৈরাজ্য। যাদের এই নৈরাজ্য দূর করার কথা, তারাই নৈরাজ্যকে উসকে দিচ্ছে। তাই অনেক দুর্ভোগ সহ্য করেও মানুষ তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু এরা কারা, যারা শিশু-কিশোরদের এমন নির্মল একটি আন্দোলনকে বিতর্কিত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে? তারা কেন দেশের মান-সম্মানকে ধুলায় লুটিয়ে দিতে চাইছে? গতকালের ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় ‘বিদেশিদের কাছে এ কেমন বার্তা’ শিরোনামে যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে, তা পড়লে সুস্থ, বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষ অবাক হবেন, কতটা কুৎসিত মানসিকতা থাকলে কেউ এমন অপপ্রচার করতে পারে! অনলাইনে প্রচার করা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সব বিদেশি সংবাদমাধ্যম, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর, পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বহু জায়গায় তারা বার্তা পাঠিয়েছে, “আমাদের সাহায্য করুন, ঢাকার রাস্তায় ‘গণহত্যা’ চলছে, ঢাকার পরিস্থিতি সিরিয়া, মিয়ানমারকেও ছাড়িয়ে গেছে, বাংলাদেশে অবিলম্বে শান্তিরক্ষী পাঠান, অসংখ্য ‘ধর্ষণ, হত্যা, হামলা, জবাইয়ের’ মতো ঘটনা ঘটছে।” শিশুদের অত্যন্ত যৌক্তিক ও নির্মল আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক? কেন তারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে?

প্রতিদিন সড়কে বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যার বেশির ভাগকে দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকাণ্ড হিসেবেই উল্লেখ করা হয়। এমন দুর্ঘটনা বা হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ সড়কে বিদ্যমান নানা ধরনের অনাচার। লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসহীন গাড়ি, বেপরোয়া গতি, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, গাড়ি চালাতে চালাতে চালকের ঘুমিয়ে পড়া, মাদকাসক্ত চালক, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, নিয়ম বা আইন-কানুন কিছুই না মানা—এমন আরো অনেক কারণেই ঘটে এসব দুর্ঘটনা। একইভাবে বিমানবন্দর সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রদের চাপা দেয় প্রতিযোগিতা করে আসা একটি বাস। এতে মীম ও রাজীব নামে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, আহত হয় আরো কয়েকজন। এ ঘটনা শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে আহত করে। তারা প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে এবং ৯ দফা দাবি জানায়। তার পরের কয়েক দিন রাস্তায় চলা নানা ধরনের অনিয়ম তুলে ধরে জাতির সামনে তারা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নেন এবং যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর সে আশ্বাস কতটুকু বাস্তবায়িত হয় তা দেখার জন্য আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীরা ঘরে ফিরে গেছে। কিন্তু ওই শ্রেণিটি কেন সেই আন্দোলন নিয়ে দুনিয়াব্যাপী এমন জঘন্য অপপ্রচার করছে? বলা হয়ে থাকে, রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু গোষ্ঠী আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে। তারাই বাস ভাঙচুর করে, বাসে আগুন দেয়, ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার করে আন্দোলনকারীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। যারা নামে-বেনামে বিদেশি গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানে এসব বার্তা পাঠিয়েছে, তারা একই হীন উদ্দেশ্য থেকে এসব কাজ করেছে।

আমরা মনে করি, দেশের সম্মানে আঘাত হানা এই অপশক্তিকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা প্রয়োজন। প্রতিটি বার্তার উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

Check Also

দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য না হওয়াই ভালো

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ হিসাবে সময় আছে …

Powered by themekiller.com