Breaking News
Home / রাজনীতি / এক ছবিই কাল হল আল্লামা বাবুনগরীর

এক ছবিই কাল হল আল্লামা বাবুনগরীর

যমুনা নিউজ  বিডিঃ w২০১৮ সালের ১৯ রমজান রাজধানীর ঢাকার পুরানা পল্টনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে মাওলানা দেলোয়ার সাঈদী পুত্র শামীম সাঈদীর এক সহকারীর তোলা ছবিই কাল হল আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম প্রকাশ হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা ও হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর। গত দুই বছর আগের এ ছবিকে পুঁজি করে নানা মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজিয়ে আল্লামা বাবুনগরীকে জামাতি বানানোর মিথ্যা পরিকল্পনা চলছে এমনটা দাবী করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) উক্ত ঘটনার আদ্যোপান্ত নিয়ে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা ইন`আমুল হাসান ফারুকী’র পাঠানো এক বিবৃতিতে এমনটা দাবী করা হয়।

সাঈদী পুত্রের সাথে আল্লামা বাবুনগরী পূর্ব পরিচয় ছিল না এমন জানিয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৮ সালের রমজানে আল্লামা বাবুনগরী হুজুর ঢাকায় যান হাটহাজারী বড় মাদরাসার চাঁদা সংগ্রহ করতে। প্রায় ১০ দিন তিনি ঢাকাতেই ছিলেন এবং মাদরাসার জন্য চাঁদা সংগ্রহ করেন। ওই সময় হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বাবুনগরীহুজুরকে জানালেন, রাজধানী ঢাকার পুরানা পল্টনের সুবহান ম্যানশনে এসএমএম নামে একটি নতুন কুরিয়ার সার্ভিস রয়েছে। সে কুরিয়ার সার্ভিসের মালিকদের একজন মাওলানা হানিফ সাহেব, তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। তিনি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানীর পক্ষ থেকে হাটহাজারী মাদরাসার জন্য কিছু অনুদান দিবেন। তাই মাওলানা হানিফ সাহেব হুজুরকে সেখানে ইফতারের দাওয়াত দেন।

ওই দিন চাঁদা সংগ্রহ শেষে আসরের পরে হুজুর কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্যালয়ে পৌঁছার একটু পরে কোম্পানির সকল শেয়ার হোল্ডার সেখানে ইফতারের জন্য উপস্থিত হন। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে একজন ব্যক্তি আসলো যাকে হুজুর চিনতেন না। উপস্থিত অফিসের একজন ডাইরেক্টর আওয়ামী লীগ নেতা জানালেন তিনি মাওলানা দেলোয়ার সাঈদী পুত্র শামীম সাঈদী।

সেদিন ইফতারের পর সাঈদী পুত্র বাবুনগরীর সাথে কথা বলতে চান। এ সময় তিনি বাবুনগরী হুজুরের পাশে বসা অবস্থায় ওনার এক সহকারী সকলের অজান্তে মোবাইলে ছবি তুলে ফেলেন। তখন হুজুর বিষয়টা জানতে পেরে তাঁর ওপর প্রচন্ড রাগান্বিত হন এবং ছবিটি মোবাইল থেকে মুছে ফেলতে বলেন। তখন সাঈদী পুত্র হুজুরকে নিশ্চিত করে বলেন, ছবিটা শুধু স্মৄতি হয়ে থাকবে, অন্য কিছু নয়। তবে ওই ইফতার মাহফিল সব রাজনৈতিক ঘরওয়ানার লোক উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের অনেক রাজনৈতিক নেতাও সেখানে ছিলেন। ওই দিন এটা আদৌ কোন জামাত শিবিরের মিটিং ছিলো না। সেদিন মাদরাসার জন্য অনুদানের একটি চেক গ্রহন করে হুজুর উক্ত কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান এবং অদ্যবদি সাঈদী পুত্রের সাথে বাবুনগরীর আর কোন সাক্ষাৎ হয়নি।

এদিকে সাঈদী পুত্র রমজানের কিছুদিন পর ইফতারের সময়ে হুজুরের সাথে তাঁর তোলা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেন। ছবিটি ফেসবুকে আপলোড করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় পরের বছর ২০১৯ সালে হুজুর আর সেখানে অনুদানের জন্য যাননি।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের এই ছবিকে পুঁজি করে এখন কেন নানা মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজানো হচ্ছে এমনটা প্রশ্ন রেখে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন সরকার বিরোধী ও জামাতি বানানোর জন্য মিডিয়ায় মিথ্যা নিউজ করানো হচ্ছে। ইফতার মাহফিলে বসার কারণে যদি হুজুর জামাতি হন তাহলে সেখানে অনেক বড় আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলো তাহলে তো হুজুরকে আওয়ামীলীগও বলা যাবে ? এছাড়া ২০১৮ সালে যখন সাঈদী পুত্র ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেছিলো তখন এ সক্রান্ত কোন কথা উঠেনি। কিন্তু ২ বছর পর ঘটনার আদ্যোপান্ত না জেনে এই ছবি সামনে আনা হলো একটি বিশেষ মুহূর্তে। আর গোপন বৈঠক বলে সেই পুরান ছবি ফেসবুকে প্রচার করে আলেম ও মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করতে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যা বিষয়টি সম্পুর্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অবাস্তব ।

Check Also

অপপ্রচার–বিভক্তি করোনাভাইরাসকে প্রাণশক্তি জোগাচ্ছে: কাদের

যমুনা নিউজ বিডিঃ বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সরকারের সমালোচনাকে …

%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com