Home / সম্পাদকীয় / আস্থা অর্জনই মূল লক্ষ্য হোক

আস্থা অর্জনই মূল লক্ষ্য হোক

দৃশ্যমান কোনো কারণ না থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছুদিন থেকেই পুঁজিবাজারে দরপতন চলছে। সপ্তাহের প্রথম দিন গত রবিবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে শেয়ারের মূল্যসূচক পতনের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে। ধারণা করা যেতে পারে, মূলত আস্থার সংকটই পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলেছে বেশি। দেশের দুই পুঁজিবাজারের যখন এই অবস্থা, তখনই চীনা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি হলো। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার করার মাধ্যমে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। গত ৩ মে চীনের শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রস্তাব অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। চীনা এই কনসোর্টিয়াম ডিএসইর ‘ব্লকড অ্যাকাউন্টে’ থাকা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৫ শতাংশ বা ৪৫,০৯,৪৪,১২৫টি শেয়ার ২১ টাকা দরে কিনবে; যার মূল্য ৯০০ কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি চীনা এই কনসোর্টিয়াম ডিএসইর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা (৩৭ মিলিয়ন ডলার) খরচ করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে। তাদের আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ডিএসইর যেমন কাজে লাগবে, তেমনি তাদের ব্র্যান্ড ডিএসইকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। চীনের এ দুটি এক্সচেঞ্জ অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও এদের প্রবৃদ্ধির ধারা ব্যাপক। তাই তারা যখন কোনো বাজারের অংশীদার হবে তখন সেই বাজারেরও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকবে। চীনের কনসোর্টিয়াম কাজ শুরুর পর ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দৈনিক লেনদেন বাড়বে এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ হবে বলে মনে করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংহাই-শেনজেন বিশ্বের অন্যতম দুটি স্টক মার্কেট। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের বাস্তবতাকে তারা মূল্যায়ন করেই গৃহীত শেয়ারের উচ্চ মূল্য দিয়েছে। ২৫ শতাংশ শেয়ারের জন্য তারা মূল্য প্রদান করেছে ১২০ মিলিয়ন ডলার, যা যেকোনো বিবেচনায় একটা বড় অঙ্ক। এ ছাড়া তারা ৩৭ মিলিয়ন ডলারের একটা কারিগরি সহায়তা তহবিলও জোগান দেবে। কারিগরি দক্ষতার দিক দিয়ে সাংহাই-শেনজেন বিশ্বে অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান এত বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে সম্মত হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান এই বাজারে ব্যবসা নিয়ে আসবে—এটাই বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

চীনা কনসোর্টিয়ামের পুঁজিবাজারে আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে নেওয়ার একটা বড় সুযোগ এসেছে। এখন বাজারের ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে স্টক এক্সচেঞ্জের সংস্কৃতিতে আনতে হলে এই বাজারের প্রতি তাদের ভয়ভীতি কাটাতে হবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই ধারণা পৌঁছে দিতে হবে যে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিচিতি পেল আমাদের শেয়ারবাজার। তারা নিশ্চয়ই নতুন নতুন ফিন্যানশিয়াল প্রডাক্ট বাজারে আনবে। বন্ড মার্কেট গতি পাবে। কিছুটা সময় নিলেও আস্থা অর্জনের মাধ্যমে পুঁজিবাজার আবার আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আমরা মনে করি।

Check Also

মহাসড়কের করুণ দশা

সামনে ঈদুল আজহা। কয়েক দিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে ঈদ যাত্রা। সড়কপথে চলাচলকারী বাসের টিকিট …

Powered by themekiller.com