Home / সম্পাদকীয় / আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে

আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি স্থগিত করেছিল। এর পর থেকে এই সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশ অনেক দেন-দরবার করেছে। কিন্তু সেই সুবিধা আর ফিরে পায়নি। ২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সেই সুবিধা এত দিন দিয়ে এলেও এখন তা বন্ধ করার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, পোশাক খাতের সংস্কারবিষয়ক ইউরোপের ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশের (অ্যাকর্ড) কার্যক্রমের মেয়াদ না বাড়ানোয় তারা বাংলাদেশের জিএসপি প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের প্রধান এই রপ্তানি খাতটি নিয়ে এক ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কি পারবে সেই ঝুঁকি মোকাবেলা করতে?

‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (অস্ত্র ছাড়া সব কিছু) স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে অস্ত্র ছাড়া সব পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার বা জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছিল। একক অঞ্চল হিসেবে ইইউ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য। সেখানে জিএসপি সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে তা অবশ্যই বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু বাংলাদেশের কী করার আছে? ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্স ও ইউরোপের জোট অ্যাকর্ড বাংলাদেশের কারখানাগুলোর মান পরিদর্শনের কাজ শুরু করে। মানসম্মত না হওয়ায় অনেক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে একাধিকবার সংগঠন দুটির কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ আদালত মেয়াদ আর না বাড়াতে সরকারকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কার্যক্রমের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরে তাদের কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। কোনো কোনো সদস্য বাংলাদেশকে প্রদত্ত জিএসপি সুবিধা তদন্ত ও বাতিল করার প্রসঙ্গটিও তুলেছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা তাঁদের জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব নয়। এখন দেখার অপেক্ষা, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এ ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে এত দিন বাংলাদেশ যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিল, ক্রমেই তার অনেক কিছু চলে যাবে। বাংলাদেশকে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তার পরও কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের মেয়াদ আর বাড়ানো না গেলেও অন্য কোনোভাবে তাদের উপস্থিতি রাখা যায় কি না, তা বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। অ্যাকর্ড ১৯২টি আন্তর্জাতিক পোশাক প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তাদের কাজ বাংলাদেশের কারখানা নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকাই রাখবে। আমরা মনে করি, ইইউর সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণে আমাদের আরো আন্তরিক হতে হবে।

Check Also

উপযোগী পরিবেশ রক্ষা করতে হবে

সারা দেশে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। কোন দল থেকে কোথায় কাকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে, …

Powered by themekiller.com