Home / সারাদেশ / খুলনা বিভাগ / আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ফলে ৩ গ্রাম পুরুষ শুন্য

আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ফলে ৩ গ্রাম পুরুষ শুন্য

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : আধিপত্য ও বাজার দখলকে কেন্দ্র করে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর, সান্দিয়ারা ও ডাঁশা গ্রাম এখন পুরুষ মানুষ শুন্য।

ফলে থমকে গেছে এই তিন গ্রামের কৃষিসহ অনান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, এই তিন গ্রামে বাড়িগুলোতে নারীরা থাকলেও নেই কোনো পুরুষ মানুষ। এতে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে নারী ও শিশুরা। ফলে চুরি ডাকাতি বেড়ে যাওয়ার আশংকাও দেখা দিয়েছে।

গত ০৬ জুলাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুমন গ্রুপ ও মামুন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য ও বাজার দখলকে কেন্দ্র করে আ’লীগের পদধারী ও পদহীন দু’পক্ষের সম্মুখ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যা, ভাংচুর, লুটপাট, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদানে ত্রি-পক্ষীয় মামলায় জ্ঞাত-অজ্ঞাত পাঁচশোর বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় রাজপুর গ্রামের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সুমন গ্রুপ সমর্থক বিল্লাল হোসেনের (৪৮) ছেলে রহমত আলীর অভিযোগ, ‘গুলি করে হত্যাকান্ডের ঘটনায় ধুম্রজাল সৃষ্টি করে অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। এমনকি আমার বাবার লাশও আমাদের কাছে দেয়নি পুলিশ। লাশের গোসল কাফন ছাড়াই বডি প্যাকেটে ভরে রাজাপুর গোরস্থানে কোন রকম মাটি চাপা দিয়ে ঢেকে রেখে গেছে পুলিশ। উল্টা আমাদেরই এখন পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে। সঠিক তদন্ত করে হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং উভয় পক্ষই দাবি করছেন নিহত বিল্লালের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের আঘাতে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন পুলিশ।

রাজাপুর গ্রামের জঙ্গল পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন স্বামীর খাবার নিয়ে যেতে হয় হাজেরা খাতুন (৫২) খাতুনকে। তিনি বলেন, ‘কি করব, পুলিশের ভয়ে বাড়িত থাকার জো আছে? গোন্ডগোলের পরদিন থিকে মাঠে ঘাটেই থাকতি হচ্ছে, কিডা আর রাস্তায় বইসি পাহারা দিবি? তাই বুলিচি মাঠেই থাকো বাড়িত আসার দরকার নাই’।

কলেজ ছাত্রী সাজনীন আক্তার বলেন, সারা গ্রাম ঘুরে দেখেন, গত ১০দিন ধরে অভিভাবক ও পুরুষশুন্য গ্রামের মহিলা-শিশুরা কিভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এমন ভীতিকর পরিস্থিতির সমাধান করে আমাদের নিরাপত্তা চাই। ঘটনা যা ঘটেছে তার সঠিক তদন্ত করে বিচার করা হোক।

পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জনজীবনে সৃষ্ট আতঙ্কের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। তাছাড়া দু’জনই এমপি মহোদরে লোক উনারাও হয়ত উদ্যোগ নেবেন বলে বিশ্বাস করি।

কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস জানান, বর্তমানে এই অঞ্চলে আমন ধানের বীজতলা দেওয়া শেষ হয়েছে। কিছুদিন পরে আমন ধান রোপন করা হবে। যদি কৃষকরা মাঠে যেতে না পারে তাহলে ধান রোপনের ক্ষেত্রে দেরি হয়ে যাবে। ফলে ধান উৎপাদন কমে যেতে পারে।

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও পুলিশসহ ৫০জন আহত হয়েছে। ভাংচুর, লুটপাট, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদানের অপরাধে পুলিশের করা মামলা ছাড়াও দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় জ্ঞাত অজ্ঞাত প্রায় পাঁচ শতাধিক আসামী। এঘটনায় দু’পক্ষের প্রধান মামুন ও সুমনসহ ১৪জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি এখন শান্ত স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে দাবি করে এলকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে বলেও জানান তিনি।

 

Check Also

১৫ আগস্ট ঘিরে ধানমণ্ডি ও বনানীর হোটেল-মেসে তল্লাশি

যমুনা নিউজ বিডিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com