Home / লাইফস্টাইল / আমলকির ঔষধি গুণ ও উপকারিতা

আমলকির ঔষধি গুণ ও উপকারিতা

যমুনা নিউজ বিডিঃ আমলকি টক আর তেতো স্বাদের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। আকারে ছোট্ট এই  ফলটি দেখতে যেমন মিষ্টি খেত তেমন সুস্বাদু।  আমরা কম বেশি অনেকেই আমলকি পছন্দ করি। এর স্বাদ প্রথমে কষটে লাগলেও খাওয়া শেষে মুখে মিষ্টি ভাব আসে। নানা ধরনের উপকারিতা ভরপুর এই ফলটি এদেশের আনাচে কানাচে সব জায়গাই পাওয়া যায়। আমলকি খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকির জুড়ি নেই। এছাড়া লিভার, জন্ডিস, পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী। এই ফল থেকে কী কী উপকার পাওয়া যায় এবং এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নেই:

বর্ণনা:

আমলকী বা আমলকি (বৈজ্ঞানিক নাম: Phyllanthus emblica) ফাইলান্থাসি পরিবারের ফাইলান্থুস গণের একপ্রকার ভেষজ ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম ‘আমালিকা’। ইংরেজি নাম amla বা Indian gooseberry এরা রোমশ বিহীন বা রোমশ পর্ণমোচী বৃক্ষ। আমলকী গাছ ৮ থেকে ১৮ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট হতে পারে, পাতা ঝরা প্রকৃতির। হালকা সবুজ পাতা, যৌগিক পত্রের পত্রক ছোট, ১/২ ইঞ্চি লম্বা হয়। হালকা সবুজ স্ত্রী ও পুরুষফুল একই গাছে ধরে। ফল হালকা সবুজ বা হলুদ ও গোলাকৃতি ব্যাস ১/২ ইঞ্চির কম বেশি হয়। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে ই দেখা যায়। গাছ ৪/৫ বছর বয়সে ফল দেয়। আগস্ট – নভেম্বর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। 

ব্যবহার:

আমলকির ভেষজ গুণ রয়েছে অনেক। ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকিতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।

একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। দিনে দুটো আমলকি খেলে এ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। আমলকি খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকি ফলের জুড়ি নেই। এছাড়া পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী। লিভার ও জন্ডিস রোগে উপকারী বলে আমলকি ফলটি বিবেচিত। আমলকী, হরিতকী ও বহেড়াকে একত্রে ত্রিফলা বলা হয়। আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ত্রিফলা স্বাস্থ্যের জন্য বহুমাত্রিক উপকারী। এ তিনটি শুকনো ফল একত্রে রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা ছেঁকে খালি পেটে শরবত হিসেবে খেলে পেটের অসুখ ভালো হয়।

বিভিন্ন ধরনের তেল তৈরিতে আমলকি ব্যবহার হয়। কাচা বা শুকনো আমলকি বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। কাচা আমলকি বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে দুতিন ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এভাবে একমাস মাখলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল উঠা এবং তাড়াতড়ি চুল পাকা বন্ধ হবে।

ঔষধি গুণ:

আমলকী কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে, বমি বন্ধে কাজ করে, দীর্ঘমেয়াদি কাশি সর্দি হতে উপকার পাওয়ার জন্য আমলকীর নির্যাস উপকারী, এটি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধক, এটি দাঁত,চুল ও ত্বক ভাল রাখে, এটি খাওয়ার রুচি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, অম্ল,রক্তশূন্যতা, বমিভাব দূর করতে সাহায্য করে, বহুমূত্র রোগে এটি উপকারী, চোখ উঠলে কাঁচা আমলকীর রস দিনে ২ ফোটা করে দুই বার দিলে ভাল আরাম পাওয়া যায়, চুল ওঠা দূর করতে আমলকী বেশ উপকারী, চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে।

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা:

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকিতে যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফ্রি র‌্যাডিকালস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারণ এই ফ্রি র‌্যাডিকালস।

আমলকি ত্বক, চুল ও চোখ ভালো রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

আমলকি হজমে সাহায্য করে ও স্টমাক অ্যাসিডে ব্যালেন্স বজার রাখে।

আমলকি লিভার ভালো রাখে, ব্রেনের কার্যকলাপে সাহায্য করে ফলে মেন্টাল ফাংশনিং ভালো  হয়।

আমলকি ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

হার্ট সুস্থ রাখে, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে তোলে।

শরীর ঠান্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, মাসল টোন মজবুত করে।

লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভালো রাখে।

জ্বর, বদহজম, সানবার্ন, সানস্ট্রোক থেকে রৰা করে।

আমলকির জুস দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখার জন্য উপকারী। ছানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যায় উপকারী।

পেটের জ্বালা-জ্বালাভাব কম রাখে। লিভারের কার্যকলাপে সাহায্য করে, পাইলস সমস্যা কমায়।

শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। ব্রঙ্কাইটেসও অ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।

আমলকির গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে থেকে পারেন। ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে।

এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

আমলকিতে সামান্য লবণ, লেবুর রস মাখিয়ে রোদে রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর খেতে পারেন।

খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার খেতে পারেন। হজমে সাহায্য করবে।

আমলকি মাঝারি আকারে টুকরো করে নিয়ে ফুটনত্ব পানির মধ্যে দিন। আমলকি নরম হলে নামিয়ে পানি ঝরিয়ে লবণ, আদা কুঁচি, লেবুর রস মাখিয়ে রোদে রেখে দিতে পারেন। সারা বছরই ভালো থাকবে।

Check Also

মশা তাড়ানোর তিনটি সহজ উপায়

যমুনা নিউজ বিডিঃ তাড়ানোর জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলো তেমন কার্যকরী …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com