Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / আজ শ্রীবরদী মুক্ত দিবস

আজ শ্রীবরদী মুক্ত দিবস

যমুনা নিউজ বিডি: একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর। খণ্ড খণ্ড কয়েকটি যুদ্ধের পর এ দিন পরাজিত হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। মুক্ত হয় শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা। এ যুদ্ধে পাকহানাদারদের হাতে শহীদ হন ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধা। হত্যা করা হয় অনেক গ্রামবাসীকে।

যুদ্ধকালীন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, ৪ ডিসেম্বর ধানুয়া কামালপুর মিত্র বাহিনীর আক্রমণে হেরে যায় পাকহানাদার বাহিনী। পরে পাকসেনারা ছুটে আসে শ্রীবরদীর দিকে। এ সংবাদ পান ১১ নম্বর সেক্টরের কর্নেল আবু তাহের। তার নেতৃত্বে গেরিলা সৈনিকদের নিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধারা। কর্নেল তাহের আরো জানতে পারেন ৫ ডিসেম্বর রাতে কামালপুর থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা বকশিগঞ্জ ও শ্রীবরদী হয়ে পাকিস্তানি মেজর আইয়ুব জামালপুর যাবে। সেই সূত্র ধরে শ্রীবরদীর হতে বকশিগঞ্জ সড়কের টিকরকান্দি এলাকায় সন্মুখ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। মেজর আইয়ুব সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে সেই রাস্তায় আসার পথে শুরু হয় যুদ্ধ। রাতভর চলে মুখোমুখি যুদ্ধ। বিস্ফোরিত হয় স্থলমাইন। চলে গুলি বর্ষণ। এলাকার লোকজন ভয়ে ঘরবাড়ি ফেলে ছুটে যায় নিরাপদ আশ্রয়ে। অবশেষে এ যুদ্ধে নিহত হয় মেজর আইয়ুবসহ পাকসেনারা।

পাকসেনাদের পরাজিত হওয়ার এ খবর ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। ভোরে শতশত লোক জড়ো হয় শ্রীবরদী হতে বকশিগঞ্জ সড়কে। সবার কণ্ঠে মুখরিত হয়ে ওঠে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। এ সময় সেখান থেকে দলে দলে উচ্ছ্বসিত মানুষ আর মুক্তিযোদ্ধারা আসে শ্রীবরদী বাজারের পুরাতন হাসপাতাল মাঠে। এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ওইসব মুক্তিকামী মানুষসহ মুক্তিযোদ্ধারা।

সেই পাক হানাদার বাহিনীর পরাজিত হওয়ার বর্ণনা দেন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল হক মুন্সী (বীর প্রতীক ‘বার’)। তিনি জানান, স্বাধীনতাযুদ্ধে এ দিন ছিল শ্রীবরদীর জন্যে বিজয়ের দিন। এ যুদ্ধে মেজর আইয়ুবসহ পাকসেনারা পরাজিত হওয়ার কারণে শেরপুর ও জামালপুরের পাকসেনারা আরো দুর্বল হয়ে পড়ে।

সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুল ইসলাম জানান, সেই সময় কাটাখালি, ফুলকারচর, তেনাচুড়া, টিকরকান্দি, রাঙাজানসহ বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ হয়েছে। পাকসেনারা অনেক বাড়ি ঘরে হামলা করেছে। লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক নারী হয়েছে ধর্ষণের শিকার। একাত্তরের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলো আজো মানুষ ভুলতে পারেনি।

সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হামিদুর রহমান জানান, স্বাধীনতাযুদ্ধে পৌর শহরের থানা রোডে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের বাসায়, ভায়াডাঙ্গা, বালিজুরি, রাঙাজানসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান ও বধ্যভূমি। এসব কবরস্থান আর বধ্যভূমিগুলো আজো সংরক্ষিত করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি এসব বধ্যভূমি সংরক্ষণের।

শ্রীবরদী মুক্ত দিবস উপলক্ষে সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু ছালেহ মো, নুরল ইসলাম হিরু বলেন, বধ্যভূমি ও শহীদদের কবরস্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরে তা বাস্তবায়ন হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিসভায় বলেন, ৬ ডিসেম্বর শ্রীবরদী মুক্ত দিবস। এ উপলক্ষে যেকোনো সংগঠন নানা কার্যক্রম হাতে নিতে পারে। তিনি এ দিনটি আরো বর্ণাঢ্য করে তুলে নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় বিকশিত করতে সচেতন মানুষসহ সকলকে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Check Also

বেলকুচিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর

যমুনা নিউজ বিডি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আওয়ামী লীগের দুটি নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের  হামলা করার অভিযোগ পাওয়া …

Powered by themekiller.com