Breaking News
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগে মুকুল একাই, বিএনপিসহ আছে হাফ ডজন

আওয়ামী লীগে মুকুল একাই, বিএনপিসহ আছে হাফ ডজন

যমুনা নিউজ বিডি:  ভোলা-২ ( দৌলতখান ও বোরহানইদ্দিন ) আসনটিকে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আসন বলা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তার পরেই পরপর তিনবার নির্বাচিত হয়ে হেট্রিক করেছেন বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। তিনি ১৯৮৬ সালের ৭ই মে, ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারী ও ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন নির্বাচিত হয়েছেন। পরে আবার ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে আবারও নির্বাচিত হন। জীবনের ৭বার সংসদ নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে ৪ বারই তোফায়েল আহমেদ দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদ এর আপন বড় ভাইয়ের ছেলে আলী আজম মুকুলকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়। সাবেক দৌলতখান পৌরসভার মেয়র আলী আজম মুকুল সেখান থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।

ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে ভোলা-২ আসন। এখানে দুটি পৌরসভাও রয়েছে। মোট এ আসনে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৮ জন ভোটার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। তার মধ্যে এক লাখ ৫২ হাজার ২৪জন পুরুষ ভোটার ও এক লাখ ৪৪ হাজার ৯৩৪ জন নারী ভোটার রয়েছেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য মোট একশত ১২টি ভোট কেন্দ্রে ছয়শত ৩৮টি ভোট কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা যায় ভোলা নির্বাচন অফিস সূত্রে।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মুকুল নিজের কর্মকাণ্ড দিয়ে আরো মন জয় করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের। সবার মাঝে গড়ে তুলেছেন এক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। দিনরাত দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিনের মানুষের পাশে থাকায় তাকে সবাই আপন করে নিয়েছে অতি সহজে।

এলাকাবাসীরা বলেন, তিনি একটু ব্যাতিক্রমও বটে, অন্যান্য সকল সাংসদদের চেয়ে। একজন খেটে খাওয়া গ্রামের সাধারণ মানুষ এমপি মুকুলের কাছে এসে কথা বলতে পারেন সহজে। কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী বলেন, উনি যখন মেয়র ছিলেন তখন থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে থাকতেন। তৃনমূল থেকে রাজনীতি করে আসা এ রাজনীতিবিদ মানুষের সুখে, দু:খে,অভাব অনটনের কথা শুনে তা সমাধানের চেষ্টা করেন। কেউ ফিরে যান না তার কাছ থেকে সাহায্য না পেয়ে।

তিনি সাংসদ হয়েও মাসে ১৫ দিনের বেশি সময় নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাটান। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন পুরোপুরি নদী ভাঙার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

সাংসদ আলী আজম মুকুলের হাত ধরেই ৫৫২ কোটি টাকার সিসি ব্লক, দুই উপজেলায় দুটি কলেজকে সরকারিকরণ, বোরহানউদ্দিন লঞ্চ ঘাট অধুনিকায়ন, দৌলতখান উপজেলা কমপ্লেক্স, অসংখ্য নতুন রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবনের নির্মাণ হয়েছে। এসব কারণেই আজ আলী আজম মুকুল এমপির জনপ্রিয়তা স্বর্ণশিখরে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা আজ মুকুলের জন্য ঐক্যবদ্ধ। তাই তৃণমূল ভাবেন আগামীতে বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে এরকম ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আলী আযম মুকুলের বিকল্প নেই।

যদি এই তরুন নেতা মুকলকেই আবার মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে আবারও আওয়ামী লীগের বিজয় শুনিশ্চিত করতে পরবে বলে আশাবাদী দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের। উন্নয়নের পাশাপাশি সাংগঠনিক দিক থেকে মুকুলের নেতৃত্বে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের দূর্গ। তিনি সকল ইউনিয়ন, পৌরসভার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি খুবই শক্তিশালী করেছেন।

কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন ছাড়াও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে উঠান বৈঠক করে যাচ্ছেন দফায় দফায়। নেতা কর্মীরাও মনে করেছেন মুকুল আবার মনোনয়ন পেলে পূনরায় এ আসনটি আওয়ামীলীগের দূর্গ হয়েই থাকবে। এছাড়া ভোলা-২ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে আর কোনো প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে একবারই বিএনপি হানা দিতে পেরেছিলো। ২০০১ সালে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদকে হারানো হয় ভোলা তিনটি আসন থেকেই। নির্বাচিত হন বিএনপি জোটের সংসদ হাফিজ ইব্রাহিম। তারপর থেকেই দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন হয়ে উঠে সন্ত্রাসের জনপদ। বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠে বিভিন্ন বাহিনী। হামলা-মামলা , নারী নির্যাতন, খুন, পুকুরের মাছ লুট ও জমি দখল সহ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর হামলা চলতে থাকে। প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয় সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে। কিন্তু সে রকম অবস্থা এখন নেই সেখানে। সবাই স্ব-অবস্থানে আছে যার যার মতো। সাংগঠনিক ভাবেও ঝিমিয়ে পড়েছে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি। ত্যাগী নেতাদেরকে বাদ দিয়ে দেয়া হচ্ছে নতুন কমিটি। ফলে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে ত্যাগী ও নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ। নতুন কমিটি করা হচ্ছে ঢাকা থেকে, আবার কমিটি পাওয়ার পরও তারা থাকেন ঢাকায়।

এদিকে এ আসন থেকে আবারো হাফিজ ইব্রাহিম পরিবারই মনোনয়ন চাইবেন শোনা যাচ্ছে। তবে দূর্নীতি মামলাসহ বিভিন্ন মামলার বেড়াজালে যদি তিনি নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে তার ছেলে ব্যারিস্টার মারুফ ইব্রাহিম আকাশ অথবা তার স্ত্রী, মারুফা ইব্রাহিম নির্বাচন করবেন।  এছাড়াও স্বচ্ছ রাজনীতিবীদ হিসেবে বিএনপি থেকে বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী রফিকুল ইসলাম মোমিন মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি।

তিনি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যদি আমাকে সুযোগ দেন তাহলে এলাকার উন্নয়ন সহ সুস্থ ধারার এক রাজনীতি উপহার দিবো এ জনপদের মানুষের কাছে। অপরদিকে লায়ন নজরুল ইসলাম, প্রবাসী জাহাঙ্গির এম.আলম ও ডা. সিরাজুল ইসলাম এর নাম শোনা যাচ্ছে বিএনপির পক্ষে। জাতীয় পার্টি এরশাদের পক্ষে জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মনোনয়নের জন্য লবিং করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

Check Also

তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে সিপিবি

যমুনা নিউজ বিডি: তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে …

Powered by themekiller.com