Home / সারাদেশ / রাজশাহী বিভাগ / আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে নিহত ২

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে নিহত ২

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোসলেমগঞ্জ বাজার এলাকায় আওয়ামীলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও আহত হন কমপক্ষে আরো ১২ জন। শনিবার রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কালাই উপজেলার পুনট মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আফতাব হোসেন (৪৮) ও পুনট বাজার এলাকার মাহিশ্ম পাড়া গ্রামের চারু মহন্তের ছেলে রতন কুমার মহন্ত (৪৩)।
আহত ১২ জনের মধ্যে মোসলেম গঞ্জ বাজার সংলগ্ন মান্দাই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আবু মুসা (৪২), দুধইল নয়াপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন মন্ডলের ছেলে বায়েজিদ হোসেন (২১), দুধইল গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আব্দুস সোবাহান মন্ডল (৪০) ও পুনট বাজার এলাকার দেওগ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রানা মিয়া (৩৮) গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ আহত অন্যন্যরাও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত কালাই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন তৃতীয় বারের মত নির্বাচিত হন।
তবে ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিকও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন এবং লজিককে সমর্থন করেন উদয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী দাদা ভাই। তখন থেকেই মিনফুজুর রহমান মিলন বনাম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক ও ওয়াজেদ আলী দাদা ভাই এ দু’গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল এবং ওই বিরোধের সূত্র ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এলাকাবাসীসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনার জন্য পরষ্পর পরষ্পরকে দোষারুপ করছেন। উদয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী দাদা ভাই বলেন, শনিবার রাতে মিনফুজুর রহমান মিলনের কর্মী-সমর্থকরা লাঠি-সোটাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে উদয়পুর ইউপি সদরের মোসলেমগঞ্জ বাজারে হামলা চালায়। এতে আমার কর্মী-সমর্থক ছাড়াও নিরীহ এলাকাবাসীদের বেধরক পেটায় এবং দোকানে ভাংচুর লুটতরাজ করে। নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন জানান, উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও লজিক তৃনমুল নেতাদের ভোটে হেরে গিয়ে লজিক ও দাদা ভাই অকারণে আমার বিরুদ্ধাচারন করতে থাকে। এমতাবস্থায় শনিবার রাতে তাদের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আমার বেশ কয়েক জন নেতাকর্মী মারাতœক আহত হন। তাদের মধ্যে গত রাতে ও রবিবার সকালে আমার ২ কর্মী নিহত হয়, আমি এর ন্যায় বিচার দাবী করছি।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুনট বাজার থেকে আওয়ামীলীগের মিলন গ্রুপের কর্মী-সমর্থকরা মোসলেমগঞ্জ বাজারে গেলে বাজারে অবস্থানরত আওয়ামীলীগের দাদা ভাই গ্রুপের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে হতাহত ছাড়াও ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ ব্যাপারে মমালার প্রস্তুতি চলছে বলেও ওসি জানান।

Check Also

শৈলকুপায় ভাইস চেয়ারম্যানের প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা, আহত ৭

যমুনা নিউজ বিডিঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা …

Powered by themekiller.com