Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে

দেশজুড়ে আলোচিত দুটি মামলার রায় হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। মামলা দুটির একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের, অন্যটি হত্যা মামলা। ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী প্রতিবাদী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়ে ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৯ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৬ ধারায় অপরাধ—অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ। ২৯ ধারায় অপরাধ—ওই ভিডিও প্রচার। আদালতের বিবেচনায় দুটি অপরাধই প্রমাণিত হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি মোয়াজ্জেমকে প্রতিটি ধারায় পাঁচ লাখ করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ পাবে নুসরাতের পরিবার। আর জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আসামি মোয়াজ্জেমকে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসির কক্ষে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয় নুসরাতকে। ওসি নিয়ম না মেনে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী ছিলেন না। কুরুচিপূর্ণ নানা প্রশ্ন করা হয় কিশোরী মেয়েটিকে। এরপর ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন ওসি। শিক্ষার্থী নুসরাত রাফিকে মানসিকভাবে হেয় করতেই ভিডিও ধারণ এবং তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন ও বিচার্য। আদালত বলেছেন, ওসি মোয়াজ্জেম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে একেবারেই সচেতন ও সতর্ক ছিলেন না তিনি।

অপর মামলায় গাইবান্ধা-১, সুন্দরগঞ্জ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার রায়ে ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানসহ (অব.) সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়ির ড্রয়িংরুমে আততায়ীদের গুলিতে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হন। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের আগে গাইবান্ধা-১, সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন জাতীয় পার্টির কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান। পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এমপি লিটনকে খুন করা হয় বলে প্রমাণিত হয়েছে আদালতে।

এই দুটি আলোচিত মামলার রায় সমাজে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে। এতে প্রমাণিত, অপরাধীর পরিচয় যা-ই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্য সমান।

Check Also

তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালে যে হামলার ঘটনাটি সারা বাংলাদেশ নাড়িয়ে দিয়েছিল, গত বুধবার …

%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com