Home / সম্পাদকীয় / অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

দিন দিন অনেক কিছুরই সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। একইভাবে বদলে যাচ্ছে জনপ্রতিনিধির সংজ্ঞাও। আগে জনসেবার লক্ষ্য নিয়ে সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত ও সৎ মানুষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার হতেন। সাধ্যমতো তাঁরা মানুষকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এখন অবৈধ অর্থের মালিক, সন্ত্রাসী বা পেশিশক্তিতে বলীয়ান চরিত্রহীন ব্যক্তিরাই বেশি করে জনপ্রতিনিধি বনে যাচ্ছেন। মান-সম্মানের ভয় আছে এমন কোনো ব্যক্তি এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করারই সাহস পান না। ফলে জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে মানুষের ধারণাই বদলে যাচ্ছে। ফল যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। সালিসের নামে চাঁদাবাজি, প্রকল্পের টাকা লুটপাট, নানা রকম দখলবাজি, দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ বা চাল-গম লুটপাটসহ বহু রকম অন্যায়ের অভিযোগ উঠছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, কেউ প্রতিবাদ করলে পিটিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া কিংবা খুন করার ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে শুধু গত এক বছরে শতাধিক মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে গতকালের কালের কণ্ঠে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো দেখলে যেকোনো বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ বিস্মিত হবেন। পরিস্থিতি এমন হলে স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে কিভাবে?

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনও এখন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে অনুষ্ঠিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই কোনো চেয়ারম্যানের সন্ত্রাস-দুর্নীতির দায় রাজনৈতিক দলের কাঁধে চলে যায়। সেই দল সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে সেই দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহলে দলগুলো প্রার্থী বাছাইয়ে আরো সচেতন হয় না কেন? জানা যায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মেম্বার ফজর আলীর বিরুদ্ধে থাকা খুনের মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে গত ৪ জানুয়ারি। ৪ জুলাই তাঁকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তাঁকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। শতাধিক মহিলার সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাৎ, ভিজিডির চাল আত্মসাৎসহ অন্যান্য অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে। অনেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। মাদক কারবারের অভিযোগও আছে অনেকের বিরুদ্ধে। শতাধিক চেয়ারম্যানকে এরই মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে, কিন্তু আরো কত শত চেয়ারম্যান একই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে তা কে জানে! অনেকের প্রতাপ-প্রতিপত্তি এত বেশি যে কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করারই সাহস পান না।

দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়ায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের এসব অপকর্মের দায় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতেই হবে। তা না হলে তৃণমূলে দলের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হবে, তা কাটিয়ে ওঠা দলের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলগুলোকে আরো সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। তার পরও কোনো প্রার্থী যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িয়ে যায়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, জনপ্রতিনিধিরা জনসেবায়ই নিয়োজিত থাক।

Check Also

মিয়ানমারের জন্য পরীক্ষা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতন ও মিয়ানমার সরকারের বৈরী মনোভাবের কারণে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় …

Powered by themekiller.com