Home / জাতীয় / অতিরিক্ত সচিব পদে ৯৮ জনকে পদোন্নতি

অতিরিক্ত সচিব পদে ৯৮ জনকে পদোন্নতি

যমুনা নিউজ বিডিঃ অতিরিক্ত সচিব পদে ৯৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে যেভাবে এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) পদোন্নতি দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল সেখান থেকে শেষদিকে এসে একেবারে ইউটার্ন নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বঞ্চিতদের বেশি সংখ্যায় পদোন্নতি দেয়া তো দূরের কথা, উল্টো ’৮৪, ’৮৫ ও ’৮৬ ব্যাচের বহুবার বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতিই দেয়া হয়নি। শুধু ৯ম, ১০ম ও ১১তম ব্যাচ থেকে লেফটআউটদের বিবেচনা করা হয়েছে। তাও এ সংখ্যা ১৯ জনের মধ্যে আটকা পড়েছে। ফলে এ তিনটি ব্যাচ থেকে অনেকে আবারও বঞ্চিত হলেন। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাবেক ডিসিও রয়েছেন। যারা বর্তমান সরকারের আমলে সাফল্যের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ডিসি পদে বহাল ছিলেন। এছাড়া ১৩তম ব্যাচ থেকে প্রথম দফায় যারা যুগ্ম সচিব হয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকেও সবাইকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় নেয়া হয়নি। ফিট ১২২ জনের মধ্যে যাদের দেয়া হয়েছে সেখানেও বাদ পড়েছেন বেশ কিছুসংখ্যক। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পদোন্নতি তালিকায় ৯৭ জনের নাম থাকলেও পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ১ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। তিনি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইকোনমিক মিনিস্টার পদে কর্মরত ১৩তম ব্যাচের মো. মেহেদী হাসান। এছাড়া পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৯ম ব্যাচের একজন, ১০ম ব্যাচের চারজন এবং

১১তম ব্যাচের চৌদ্দজন। এছাড়া নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ১৩তম ব্যাচ থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন ৬৭ জন। এ ব্যাচের যেসব কর্মকর্তা ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর যুগ্ম সচিব হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব হওয়ার জন্য ১২২ জন ফিট ছিলেন। এর মধ্যে এবার ৮৮ জনকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বাকি ৩৪ জনকে পদোন্নতির জন্য শেষ পর্যন্ত বিবেচনায় নেয়া হয়নি, যা একেবারে নজিরবিহীন ঘটনা।

সংশ্লিষ্টদের অনেকে জানিয়েছেন, ১৩তম ব্যাচ ভেঙে দুই দফায় যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। প্রথম দফায় যারা যুগ্ম সচিব হয়েছিলেন তাদের তালিকা ভেঙে অতিরিক্ত করায় অন্যরা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনেকের মতে, অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার সময় ১৯৯৪ সালের পর এ রকম ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আবার আদার্স ক্যাডার থেকে ঠিকই পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে গেছে তাদের মনোকষ্ট, যারা যোগ্য ও মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতি পাননি। এর মধ্যে ১৩তম ব্যাচ থেকে প্রথম দফায় বঞ্চিত হয়েছেন আবু জুবায়ের হোসেন বাবলু, ড. মোহাম্মদ বশীরুল আলম, কামাল উদ্দিন বিশ্বাস, নবীরুল ইসলাম, আহসান কবীর, অমল কৃঞ্চ মণ্ডল, রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া প্রমুখ। এর মধ্যে কয়েকজন ডিসিও ছিলেন। এসব অধিকতর মেধাবী কর্মকর্তার নাম তালিকায় না দেখে ব্যাচের পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারাও বিস্মিত হয়েছেন। এছাড়া লেফটআউট কর্মকর্তাদের মধ্যে ১১তম ব্যাচ থেকে দ্বিতীয় দফায় অনেকে পদোন্নতি পাননি। এরমধ্যে নোয়াখালীর সাবেক ডিসি বদরে মুনীর ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক ডিসি মুকেশ চন্দ্র, মাহমুদুল হাসান, শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, আজাদুর রহমান মল্লিক, মোস্তফা কামাল, ড. মোহাম্মদ মুহিউদ্দীন, মেহেদী হাসান, নাসরীন সুলতানা, নাসরীন আফরোজ ও নায়েব আলী মণ্ডল প্রমুখ। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের আমলে বেশ কয়েকজন সফল ডিসি ছাড়াও সাবেক একজন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিবও পদোন্নতি পাননি। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ১১তম ব্যাচের লেফটআউট তালিকার ফিট ৫৩ জনের মধ্যে ১৪জন এবার পদোন্নতির দেখা পেলেও অন্যরা পাননি। একইভাবে ৯ম ও ১০ম ব্যাচ থেকেও বেশ কয়েকজন পদোন্নতি পাননি।

সূত্র জানায়, এবার পদোন্নতির জন্য ৩৪০ কর্মকর্তার নামের তালিকা পদোন্নতির জন্য উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ১৩তম ব্যাচের ১২২ জন। বকিরা সবাই লেফটআউট। এছাড়া পরে ১৯ সেপ্টেম্বর ২ বছর পূর্তিতে যারা পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করবেন তাদেরও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে- এমন ইতিবাচক খবরও চাউর হয়। কিন্তু শেষমেশ সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। বলা হয়, এসএসবি এবার স্মার্ট পদোন্নতি দেবে। কিন্তু এটা যদি স্মার্ট পদোন্নতির চেহারা হয় তাহলে তাদের আর বলার কিছু নেই। তবে তারা একটি প্রশ্ন অবশ্যই করতে চান। সেটি হল- সম্প্রতি ইকোনমিক ক্যাডার কর্মকর্তাদের যেভাবে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়েছে তার ছিটেফোঁটা প্রভাব কেন এ পদোন্নতিতে পড়ল না। প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে তাদের সবাইকে সসম্মানে সবকিছু দিয়ে জায়গা করে দেয়া হয়েছে। অথচ প্রশাসন ক্যাডারের পদোন্নতির ক্ষেত্রে যত ইচ্ছে কলম চালানো হয় কেন। এ বিমাতাসুলভ আচরণের যৌক্তিকতা ও হেতু কী- তা তাদের জানা নেই।

যারা অতিরিক্ত সচিব হলেন : জিএম আবদুল কাদের (৫৪৪৮), মো. মাহমুদ হোসেন (৫৪৮৭), মো. নুরুন্নবী (৫৫৮৩), মো. তৌফিকুল আরিফ (৫৬০৭), বেগম সাবিনা ইয়াসমিন (৪২৫৫), ফরিদ আহাম্মদ (৫৬৮২), এসএম জাকির হোসেন (৫৬৮৪), মো. আনিছুর রহমান মিয়া (৫৬৯৬), আবদুল বাকী (৫৭০১), পলাশ কান্তি বালা (৫৭৫৮), দীপক রঞ্জন অধিকারী (৫৭৭৫), বেগম আবেদা আকতার (৫৭৯৩), ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম (৫৭৯৮), মো. নুরুজ্জামান (৫৮০৪), খান মো. রেজাউল করিম (৫৮১১), জনেন্দ্র নাথ সরকার (৫৮১৬), নুজহাত ইয়াসমনি (৫৮২৫), আবুল খায়ের মো. আমিনুর রহমান (৫৮৩০), গৌতম কুমার (৫৮৫৭), মো. আতাউর রহমান (৫৮৮৮), বেগম নুসরাত জাবীন বানু (৫৮৯১), মো. মাহমুদুল হোসাইন খান (৫৮৯২), বেগম মালেকা খায়রুন্নেছা (৫৯০০), মো. শফিকুর রেজা বিশ্বাস (৫৯০২), মো. শরিফুল ইসলাম (৫৯০৭), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৯০৯), এএইচএম সফিকুজ্জামান (৫৯১৩), একেএম নুরুন্নবী কবীর (৫৯১৪), মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান (৫৯১৬), ড. মো. নজরুল ইসলাম (৫৯২৫), মো. আলী হোসেন (৫৯২৬), মো. আজিজুর রহমান (৫৯২৯), আবদুল্লাহ সাজ্জাদ (৫৯৩৩), ড. মো. সহিদ উল্যাহ (৫৯৩৬), ড. মো. গোলাম ফারুক (৫৯৩৮), মো. আশরাফ উদ্দিন (৫৯৪১), শেখ মো. মনিরুজ্জামান (৫৯৪২), রঞ্জিত কুমার (৫৯৪৩), বশীর আহমেদ (৫৯৪৪), মো. খুরশিদ ইকবাল রেজভী (৫৯৪৫), মো. সাইদুর রহমান (৫৯৪৭), ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৫৯৪৮), খালিদ পারভেজ খান (৫৯৪৯), হোসেন আলী খন্দকার (৫৯৫১), মফিজ উদ্দীন আহমেদ (৫৯৫২), একেএম মোখলেছুর রহমান (৫৯৫৯), নাজমুল আহসান (৫৯৬৩), জিএসএম জাফর উল্লাহ (৫৯৬৬), আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন (৫৯৭৪), বেগম নাজমা মোবারেক (৫৯৭৫), মোহাম্মদ আতাউর রহমান (৫৯৭৬), মো. শোহেলের রহমান চৌধুরী (৫৯৭৭), সালেহ আহমদ মোজাফফর (৫৯৭৯), মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন (৫৯৮০), মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী (৫৯৮২), একেএম শামিমুল হক সিদ্দিকী (৫৯৮৩), ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান (৫৯৮৫), এসএম মাহবুবুর রহমান (৫৯৯২), ড. মো. মুশফিকুর রহমান (৫৯৯৩), মো. নুরুল আলম (৫৯৯৪), মো. খায়রুল আলম সেখ (৫৯৯৬), একেএম টিপু সুলতান (৫৯৯৯), বেগম সানজিদা সোবহান (৬০০০), মো. আবদুল ওয়াদুদ (৬০০১), মো. মোতাহার হোসেন (৬০০৪), সেলিম আবেদ (৬০১২), নিরঞ্জন দেবনাথ (৬০১৪), মো. বিল্লাল হোসেন (৬০১৫), হাবীব মো. হালিমুজ্জামান (৬০২১), মো. রাহাত আনোয়ার (৬০২২), বেগম ইশরাত চৌধুরী (৬০২৬), সাঈদ মাহবুব খান (৬০২৭), মো. হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাস (৬০২৮), বেগম হাবিবুন্নাহার (৬০৩৩), বেগম ওয়াহিদা আক্তার (৬০৩৬), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৬০৩৭), শাহ রেজওয়ান হায়াত (৬০৪২), মো. খলিলুর রহমান (৬০৪৫), মো. জাকীর হোসেন (৬০৪৬), এম ইদ্রিস সিদ্দিকী (৬০৪৭), মো. হাফিজুর রহমান (৬০৪৯), বেগম হাফছা হাসিনা (৬০৫০), মোহা. সেলিম উদ্দিন (৬০৫১), মো. আবদুল কাইয়ূম (৬০৫২), মো. গোলাম মোস্তফা (৬০৫৪), আবুল হাসান খান (৭৫০০), দেওয়ান সাইদুল হাসান (৭৫০৮), ড. একেএম মুনিরুল হক (৭৫৮১), ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার (৭৫১৩), খোরশেদ আলম চৌধুরী (৭৬১৪), মো. তৌহিদ হাসনাত খান (৭৪৩৭), সুকেশ কুমার সরকার (৭৬২৭), মো. রুহুল আমীন (৭৫৬৩), শেখ রিয়াজ আহমেদ (৭৫৬৭), সৈয়দ ইমামুল হোসেন (৭৬০৭), বেগম সুলতানা সাঈদা (৭৫৯৬), শেখ ফয়জুল আমিন (৭৪৭৫)।

Check Also

মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভায় যথাসময়ে নির্বাচন: ইসি

যমুনা নিউজ বিডিঃ দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোর নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com